ইকবাল করিম ভূইয়ার পোস্ট
ভারত গণহত্যার দায়ে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে বলে মনে করছেন সাবেক সেনা প্রধান ইকবাল করিম ভূইয়া।
তিনি বলেন, ইন্ডিয়া ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী ছিল এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনও রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এ অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।
সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে তিনি এ সংক্রাপ্ত একটি পোস্ট দেন। এতে তিনি আরও লেখনে, গত শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, দিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার অডিও বক্তব্য প্রচার করা হয়। ইন্ডিয়ান সরকারের প্রত্যক্ষ মদদে সেখানে বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রবিরোধী উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনা প্রমাণ করে, শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে ইন্ডিয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে, যা আমাদের সার্বভৌমত্বে বিজেপি সরকারের নগ্ন হস্তক্ষেপ। এর ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়বে এবং ইতোমধ্যেই অবনতিশীল সম্পর্কটি আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে যা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়।
সাবেক সেনা প্রধান আরও লিখেন, ইন্ডিয়া ১৫ বছর ধরে ফ্যাসিস্ট দুঃশাসনের সহযোগী ছিল এবং শেখ হাসিনার প্রতি এখনো রাষ্ট্রীয় সমর্থন অব্যাহত রেখেছে। এই অন্যায় আচরণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণ রুখে দাঁড়াতে বাধ্য হবে।
শেখ হাসিনা ও তার দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে বাংলাদেশের জনগণের বিরোধের মূল বিষয় হলো ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, হত্যাযজ্ঞ ও জাতীয় সম্পদ লুটপাটের বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। শীর্ষ অপরাধীদের বড় অংশই দেশ ছেড়ে পালিয়েছে! তাদের অনেকেই প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছে, আর ইন্ডিয়াও তা অবারিতভাবে হতে দিয়েছে ও দিচ্ছে।
চলমান বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর, আদালতের রায়ে নির্ধারিত শাস্তি নিষ্পন্ন বা বাস্তবায়ন শেষ হলেই কেবল আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার প্রশ্নে সিদ্ধান্ত হতে পারে। এর আগে নয়, এবং তা বাংলাদেশের মানুষ হতে দেবে না।
আর সে জায়গায় ইন্ডিয়া উল্টো কাজটাই করছে। তারা অপরাধ আড়াল করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, দায়ীদের আশ্রয় দিচ্ছে এবং বিচারের প্রশ্নটি এড়িয়ে এখনই অভিযুক্তদের রাজনৈতিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ওপর চাপ দিচ্ছে।
৬৬ বছর আগে দালাই লামাকে আশ্রয় দিয়ে গণচীনের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ইন্ডিয়া আজও যে মূল্য দিচ্ছে, তা থেকে তারা কোনো শিক্ষা নিয়েছে বলে মনে হয় না। শেখ হাসিনাকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার পরিণতিও দেশটিকে আরও বড় মূল্য দিতে বাধ্য করবে বলে আশঙ্কা করছি।