গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ২৯ অক্টোবরের উপনির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মাত্র আট মাসের ব্যবধানে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে অনুষ্ঠিত দুটি নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রাপ্ত ভোটে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। বিএনপির ভোট কমেছে প্রায় ১১ হাজার। বিপরীতে জামায়াতের ভোট কমেছে সাড়ে ৪৪ হাজারের বেশি। একই সময়ে দুই দলের ভোটের ব্যবধান বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৩৩ হাজার।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন তৎকালীন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছিলেন ১ লাখ ৪১ হাজার ১৭ ভোট। দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আসনটি শূন্য হয়। এরপর ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হন তার ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। অন্যদিকে জামায়াত আগের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকেই মনোনয়ন দেয়।
উপনির্বাচনে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন পেয়েছেন ২ লাখ ২৭ হাজার ৯১৭ ভোট। জামায়াতের দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৫১৩ ভোট। এবার দুই প্রার্থীর ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪।
দুই নির্বাচনের ফলাফল তুলনা করলে দেখা যায়, বিএনপির প্রাপ্ত ভোট কমেছে ১০ হাজার ৯১৯টি, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে জামায়াতের ভোট কমেছে ৪৪ হাজার ৫০৪টি বা ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অর্থাৎ সংখ্যার হিসাবে জামায়াতের ভোট কমেছে বিএনপির তুলনায় চার গুণেরও বেশি।
বিএনপির প্রার্থী পরিবর্তন হলেও দলটির প্রাপ্ত ভোটে তুলনামূলকভাবে কম পরিবর্তন এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে দলের শীর্ষ নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থী ছিলেন। অক্টোবরে তার পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন ছোট ভাই মির্জা ফয়সল আমীন। প্রার্থী পরিবর্তনের পরও বিএনপি আগের নির্বাচনে পাওয়া ভোটের প্রায় ৯৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ ধরে রাখতে পেরেছে।
বিপরীতে জামায়াত একই প্রার্থী নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও ফেব্রুয়ারিতে পাওয়া ভোটের প্রায় ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ পেয়েছে। অর্থাৎ দলটির আগের প্রাপ্ত ভোটের প্রায় এক-তৃতীয়াংশের সমপরিমাণ ভোট এবার কমেছে।
দুই দলের ভোটের ব্যবধানেও এই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটেছে। ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে ব্যবধান ছিল ৯৭ হাজার ৮১৯ ভোট। অক্টোবরে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩১ হাজার ৪০৪। অর্থাৎ ব্যবধান বেড়েছে ৩৩ হাজার ৫৮৫ ভোট বা প্রায় ৩৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।
ভোটার সংখ্যাতেও পরিবর্তন এসেছে। ফেব্রুয়ারিতে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ৫ লাখ ১১ হাজার ৬২৯ জন। উপনির্বাচনে এই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। অর্থাৎ আট মাসের ব্যবধানে ভোটার বেড়েছেন ৪ হাজার ৫০৯ জন।
উপনির্বাচনে ভোট দিয়েছেন ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৩৩০ জন। ভোট পড়ার হার ছিল ৬৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। বৈধ ভোটের সংখ্যা ৩ লাখ ২৯ হাজার ৫ এবং বাতিল ভোট ৫ হাজার ৩২৫টি। বৈধ ভোটের হিসাবে বিএনপির প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ৬৯ দশমিক ২৭ শতাংশ এবং জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছেন প্রায় ২৯ দশমিক ৩৪ শতাংশ।
উপনির্বাচনে তুলনামূলক কম ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। দুই ভোটের হিসাবে সেটা স্পষ্ট। জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াত মিলে পেয়েছিল ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৮৫৩ ভোট। উপনির্বাচনে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ২৪ হাজার ৪৩০ ভোটে। অর্থাৎ দুই দলের সম্মিলিত ভোট কমেছে ৫৫ হাজার ৪২৩টি। এর মধ্যে জামায়াতের ভোট কমেছে ৪৪ হাজার ৫০৪টি।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের দুটি নির্বাচনের ফলাফল অবশ্য একটি স্পষ্ট পরিসংখ্যানগত পার্থক্য তুলে ধরেছে। আট মাসের ব্যবধানে বিএনপির ভোট কমেছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ, জামায়াতের ৩১ দশমিক ৫৬ শতাংশ। একই সঙ্গে দুই দলের ভোটের ব্যবধান বেড়েছে ৩৪ শতাংশের বেশি।