হোম > জাতীয়

অধিদপ্তরের কাছে পাত্তাই পাচ্ছে না স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়

এম এ নোমান

নির্দেশনা বাস্তবায়ন এবং বিদ্যমান আইন ও নীতি প্রয়োগের বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কাছে পাত্তাই পাচ্ছে না স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। অধিদপ্তরকে যুগোপযোগী করা, কেনাকাটায় স্বচ্ছতা এবং প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হলেও অধিদপ্তর সেটা আমলে নিচ্ছে না। এমন অভিযোগ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তার।

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, প্রচলিত আইন উপেক্ষা করে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর শত কোটি টাকার বেশি কেনাকাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এটি সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দেওয়া হলে সেটিও আমলে নেওয়া হয়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে অসন্তোষ বিরাজ করছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, দেশের জনসংখ্যার লাগাম টেনে দক্ষ ও কর্মক্ষম জনশক্তি গড়ে তোলার জন্য ১৯৭৬ সালে করা ‘জনসংখ্যা নীতির’ আওতায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা তৈরি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার যে বৈপ্লবিক কাজ শুরু হয়েছিল, সেটি এখন অনেকটাই ম্রিয়মান। বর্তমান সরকার বারবার এটিকে কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েও এগোতে পারছে না।

স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার সাড়ে ১৫ বছরে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরে বরাদ্দের অধিকাংশই লুটপাট হয়েছে বলে অভিযোগ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সে সিন্ডিকেটেই ঘুরেফিরে শত কোটি টাকার কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয় সরকার বিভাগসহ অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগ আওয়ামী সিন্ডিকেট ভাঙার উদ্যোগ নিলেও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সেটা ভাঙতে পারছে না।

মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আমলে না নেওয়া এবং অনিয়ম ও স্বেচ্ছারিতার বিষয়ে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) ড. জিন্নাত রেহানা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কেনাকাটায় আওয়ামী সিন্ডিকেট

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাতৃত্বকালীন এবং মাতৃত্ব পরবর্তী প্রায় ২৫ ধরনের জরুরি ওষুধ (ডিডিএস কিট) কিনতে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর দরপত্র আহ্বান করলে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের ঠিকাদাররা সক্রিয় হয়ে ওঠেন। প্রতিটি ৩৫ কোটি টাকা সমমূল্যের পাঁচটি প্যাকেজে ভাগ করে এ দরপত্র ডাকা হয়। প্রতিটি প্যাকেজের জন্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২১ কোটি ১২ লাখ টাকার ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্স (কাজের অভিজ্ঞতা) থাকার শর্তারোপ করে দেওয়া হয় দরপত্রে।

দরপত্রে এমন শর্তারোপ করা পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের লঙ্ঘন বলে মনে করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। ২০২৬ সালে সংশোধিত এ আইনের ধারা ২৫-এর ২ নম্বর উপধারার উদ্ধৃতি দিয়ে তারা বলেন, ‘যোগ্যতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এমন কোনো শর্ত আরোপ করা যাবে না, যাহা অপ্রয়োজনীয়ভাবে নূতন নিবন্ধিত ব্যক্তি বা নবীন উদ্যোক্তাগণের অংশগ্রহণ সীমিত করে।’

আইনের একই ধারার ৩ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘দীর্ঘমেয়াদি অভিজ্ঞতা, উচ্চ বার্ষিক টার্নওভার, সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের অভিজ্ঞতা অথবা একক বৃহৎ চুক্তি সম্পাদনের অভিজ্ঞতাকে বাধ্যতামূলক যোগ্যতা হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে না’।

বিদ্যমান এ আইনের ধারা ২৬-এর ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘দেশীয় শিল্পের স্বার্থ সুরক্ষা, নূতন দরপত্রদাতা, অতি ক্ষুদ্র ও ক্ষুদ্র দরপত্রদাতা বা নারী দরপত্রদাতা অথবা সুযোগবঞ্চিত ব্যক্তিদের ক্রয় প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করিবার জন্য সরকার যোগ্যতার শর্তাদি শিথিল করিতে পারবে।’

পরিকল্পনা অধিদপ্তর সম্প্রতি ১৭৫ কোটি টাকার কেনাকাটার জন্য যে দরপত্র আহ্বান করেছে, তাতে শর্ত শিথিলের স্থলে আরো কঠিন করে দিয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ আমলে বঞ্চিত ঠিকাদাররা এ কাজে অংশ নিতে পারবে না।

আওয়ামী লীগ সমর্থিত ঠিকাদারদের সুযোগ করে দিতেই আইন ভেঙে কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তালিকাভুক্ত কয়েকজন ঠিকাদারের। তারা বলেন, গত ১৭ বছর হাতেগোনা যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়ে কাজ করে শত শত কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, তারাই এখন কাজ পাবেন। অন্যদের আর কোনো সুযোগ থাকছে না।

ঠিকাদারদের এ অভিযোগের বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেনের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করে তা সম্ভব হয়নি। তবে তার দপ্তরের একজন কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, বিষয়টি মন্ত্রীর গোচরে আনা হলে তিনি তাৎক্ষণিক স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব বেনজামিন রিয়াজীকে নির্দেশ দেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ডিজি ড. জিন্নাত রেহানাকে শর্ত শিথিল করে ৫০ শতাংশ করে দেওয়ার (সংশোধন নোটিস) নির্দেশনা জারি করতে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন নির্দেশনার দুই সপ্তাহ পার হলেও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

সব ধরনের দরপত্র স্থগিত স্থানীয় সরকার বিভাগের

পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬-এর অধীনে প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন এবং নতুন রেট শিডিউল প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি কাজের সব ধরনের দরপত্র ও ক্রয় প্রক্রিয়া স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগও। গতকাল বৃহস্পতিবার স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসন-১ শাখা থেকে জারি করা পরিপত্রে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় জরুরি বিষয়ের ক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হবে না।

পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ নেই

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, আয়তনের তুলনায় বাংলাদেশের জনসংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। এখানে জন্মহারও বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। ১৯৬০ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সরকার প্রথমে সীমিত পরিসরে ক্লিনিকভিত্তিক পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ১৯৬৫ সালে দেশব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক ও জাতীয় পর্যায়ে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচির আওতায় এ কার্যক্রম জোরদার করা হয়। ১৯৭৬-৭৭ সালে দেশের প্রথম জাতীয় ‘জনসংখ্যা নীতি’ প্রণয়ন করা হয়। এ সময় থেকেই মাঠপর্যায়ে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সচেতনতা তৈরি ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।

কর্মকর্তারা জানান, ১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে সরকার, গণমাধ্যম ও মাঠকর্মীরা সমন্বিতভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে জোরালো পদক্ষেপ নিলেও গত দুই দশক ধরে এটি স্থবির। অর্থ বরাদ্দ ও ব্যয় কয়েকগুণ বাড়লেও এর গতি বাড়েনি। ফলে এ সময়ে এসে প্রজনন হার স্থির হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় নিয়ে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আগে মাঠকর্মীরা গ্রামীণ নারীদের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে পরামর্শ দিতেন। এখন তা প্রায় পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পথে। পরিকল্পনা অধিদপ্তর এসব বিষয়ে নজর না দিয়ে শুধু কেনাকাটায় অর্থ ব্যয় করছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রচুর কেনাকাটা হলেও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কমিউনিটি ক্লিনিক বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পিল, কনডম ও ইনজেকশনসহ পরিবার পরিকল্পনাসামগ্রী সরবরাহে ঘাটতি থাকে। এসব সামগ্রী অপ্রতুল হওয়ায় দরিদ্র মানুষ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক স্থানে অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণের শিকার হচ্ছেন কেউ কেউ।

এছাড়াও টেলিভিশন ও রেডিওসহ প্রচারমাধ্যমে এসব বিষয়ে প্রচার একেবারেই সীমিত করা হয়েছে। আগে বিলবোর্ড, পোস্টার ও দেয়াল লিখনের মাধ্যমে যেভাবে প্রচার চালানো হতো এখন সেটা নেই। ‘ছেলে হোক মেয়ে হোক, দুটি সন্তানই যথেষ্ট’সহ নানা ধরনের আকর্ষণীয় স্লোগান থাকত ওইসব প্রচারে। বর্তমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির আধুনিকায়নের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যে ধরনের প্রচার থাকা দরকার, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর সেটা নিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলেও জানান কর্মকর্তারা।

সংসদ ভবন প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা ও সংস্কারের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

পঞ্চবটি-মুক্তারপুর দোতলা সড়ক পরিদর্শনে মন্ত্রী, দিলেন মান নিশ্চিতের নির্দেশ

স্বপ্ন বাস্তবায়নে লক্ষ্য নির্ধারণ ও কঠোর পরিশ্রম জরুরি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

প্রশ্ন ফাঁস ঠেকাতে সচিবালয়ে রাত কাটাচ্ছেন প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

চিংড়ি রপ্তানিতে গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

হাইতিতে জাতিসংঘ মিশনে যাচ্ছে সেনাবাহিনীর ৫০ সদস্য

বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য চালকদের দক্ষ করে তুলতে হবে: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্য প্যাকেটে সতর্কতামূলক লেবেল চালুর দাবি

প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরাই সমাজে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত: জামায়াত এমপি

মক্কা-মদিনার সুরক্ষা ও পবিত্রতা রক্ষা করা আমাদের ঈমানি দায়িত্ব