ঈদ সামনে রেখে এবার নৌযাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ভালো হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে ঈদে নিরাপদ নৌ যাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। মন্ত্রী বলেন, এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত যাত্রী বহন ও ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই অনুমোদন করা হবে না।
নৌমন্ত্রী বলেন, জিরো পয়েন্ট থেকে সদরঘাট পর্যন্ত সড়কে যানজট থাকবে না। ঈদকে সামনে রেখে ওই রাস্তায় অবৈধ পার্কিং বন্ধ রাখতে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। নৌযান মালিকরা ভাড়া না বাড়ানোর বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ঈদের আগে পাঁচ দিন ও ঈদের পর পাঁচ দিন পর্যন্ত বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকবে।
চাঁদা ও চাঁদাবাজির পার্থক্য তুলে ধরে নৌপরিবহনমন্ত্রী বলেন, চাঁদা এবং চাঁদাবাজি এক বিষয় নয়। অনেক ক্ষেত্রে মালিক ও শ্রমিকেরা নিজেদের সমঝোতার ভিত্তিতে একটি নির্দিষ্ট হারে অর্থ সংগ্রহ করেন এবং তা তাদের কল্যাণে ব্যয় করেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া মেনে এ অর্থ সংগ্রহ করা হলে তাকে চাঁদাবাজি বলা কঠিন।
তবে জোরপূর্বক অর্থ আদায়কে তিনি চাঁদাবাজি হিসেবে আখ্যা দেন। মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি হলো কাউকে বাধ্য করে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা। কোনও অবৈধ শক্তি যদি এ ধরনের কাজ করতে চায়, তার কোনও সুযোগ নেই। আমাদের মন্ত্রণালয়ে চাঁদাবাজি হতে দেয়া হবে না—যেকোনো মূল্যে তা প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, মালিক সমিতি নিজেদের বৈঠকে যে অর্থ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, তা বৈধ। তবে পথে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের তথ্য পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। চাঁদাবাজি একটি ফৌজদারি অপরাধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন ঘটনা ঘটলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ব্যবস্থা নেবে।
যোগাযোগ খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করাই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব বলে জানান তিনি। কোথাও ব্যত্যয় হলে স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী।