জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে দক্ষিণ এশিয়ার সব দেশই জ্বালানি তেলের সরবরাহে চাপে রয়েছে। পাকিস্তান ৫০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা রেশনিং চালু করেছে এবং কর্মঘণ্টা কমিয়েছে। ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ ও নেপাল ইতিমধ্যে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো দাম বাড়ানো হয়নি। দামের সমন্বয় করে আগামী মাস থেকে প্রয়োজন হলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়টি সরকার বিবেচনা করবে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার দলীয় এমপি শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়লেও দেশের শিল্প কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে সরকার এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রেখেছে। কৃষকদের ডিজেলপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে কৃষক কার্ড বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শওকতুল ইসলাম তার প্রশ্নে জানতে চান, জ্বালানির দাম বাড়ানো হবে কি না। জবাবে মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির জন্য একটি আইন রয়েছে। সেই আইন অনুযায়ী প্রতি মাসে দামের সমন্বয় করা হয়। গত মাসে সমন্বয় করা হলেও দাম বাড়ানো হয়নি। আগামী মাসের জন্য দামের ওপর কাজ চলছে। কাজ শেষে যদি সমন্বয় করে দেখা যায় যে এখনই দাম বাড়ানো প্রয়োজন, তাহলে আলোচনা করে বিষয়টি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে এবং মূল্যবৃদ্ধির কথা বিবেচনা করা হবে।
এর আগে সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে মন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রেক্ষাপটে ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে। ফলে জ্বালানি তেলের প্রিমিয়াম ও ফ্রেট রেটে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক নৌপথে জাহাজ চলাচলে নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়েছে। এ কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। সরকার সম্ভাব্য সব উৎস অনুসন্ধান করে দেশে সব ধরনের তেলের স্বাভাবিক সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে।
তিনি বলেন, দেশে সব ধরনের জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। মজুদের চিত্র তুলে ধরে জ্বালানি মন্ত্রী জানান, ডিজেলের মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিক টন। এছাড়া ৩০ এপ্রিলের মধ্যে আরও ১ লাখ ৩৮ হাজার মেট্রিক টন আসবে। অকটেনের মজুদ রয়েছে ১০ হাজার ৫০০ টন, এবং ৩০ এপ্রিলের মধ্যে ৭১ হাজার ৫৪৩ টন আসবে। পেট্রোলের মজুদ রয়েছে ১৬ হাজার টন, এবং এপ্রিলের মধ্যে আরও ৩৬ হাজার টন আসবে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা প্রশাসনকে সরকার নির্দেশনা দিয়েছে বলে জানান জ্বালানি মন্ত্রী। প্রতিটি জেলায় একটি করে মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে বলেও তিনি জানান।
দেশীয় খনিজ সম্পদের যথাযথ ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রাকৃতিক গ্যাসের সুষ্ঠু বণ্টন নিশ্চিত করতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উপজাত হিসেবে প্রাপ্ত কনডেনসেট ব্যবহার করে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল উৎপাদন করা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ রোধে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ৩৪২টি অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এসব অভিযানে ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে এবং ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ৩ লাখ ৩৩ হাজার ১৫৭ লিটার, অকটেন ৩৬ হাজার ৪০৫ লিটার এবং পেট্রল ৭৮ হাজার ৮৯৪ লিটার উদ্ধার করা হয়েছে। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।