আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শ্রমিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে বুধবার (২০ মে) ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় শিল্পমালিক ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ এবং শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি গাজী জসীম উদ্দিন। তিনি পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর আগেই শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও বোনাস পরিশোধ করার জন্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রতি জোরালো অনুরোধ জানান। একই সঙ্গে ঈদের আগে কোনো শ্রমিককে ছাঁটাই না করতে মালিকপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
অতিরিক্ত আইজিপি সভায় জানান, কিছুসংখ্যক কারখানা সময়মতো বেতন-বোনাস পরিশোধে ব্যর্থ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেসব কারখানার মালিকদের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করে শ্রমিকদের পাওনা ও ছুটি নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠন ও সরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেন তিনি।
বেতন-বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা যাতে কোনোভাবেই সড়ক বা মহাসড়ক অবরোধ করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করতে না পারেন, সে বিষয়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ইউনিটপ্রধানদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সরকারপ্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ নেতাদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিজিএমইএ-এর সহসভাপতি রেজওয়ান সেলিম সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানাগুলোর প্রতি সরকারের বিশেষ নজরদারি এবং বিজিএমইএ-এর পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকির কথা উল্লেখ করেন। বিকেএমইএ-এর পরিচালক মো. বেলায়েত হোসেন রিপন শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি পূরণের অঙ্গীকার ব্যক্ত করার পাশাপাশি রাতের বেলায় শিল্প এলাকায় পুলিশের টহল আরও জোরদার করার অনুরোধ জানান।
সভায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বেপজা ও কলকারখানা অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের আন্তরিক সহযোগিতায় এবারের পরিস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় অনেক বেশি আশাব্যঞ্জক হবে বলে সভায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
এসআর