এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশের জন্য বড় অন্তরায়—এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে এই শিক্ষকদের সরাসরি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কমিশন এ বিষয়ে সরাসরি নেতিবাচক অবস্থান স্পষ্ট করেছে।
রোববার আগারগাঁওয়ের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার এ অবস্থানের কথা জানান।
নির্বাচন কমিশনার জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা শিক্ষার সার্বিক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে শিক্ষকদের নিরপেক্ষতা চরমভাবে লঙ্ঘিত হয় উল্লেখ করে ইসি সাফ জানিয়ে দিয়েছে, শিক্ষাঙ্গনের গঠনমূলক পরিবেশ বজায় রাখতে এই অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
জামায়াতের পক্ষ থেকে ইসির ওপর সরকারি চাপের অভিযোগ তোলা হয়েছিল। এই প্রসঙ্গে কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, নির্বাচন কমিশন সরকারের চাপে আছে—এমন ভিত্তিহীন দাবি তোলা মূলত কমিশনকে উল্টো চাপে রাখার একটি রাজনৈতিক কৌশল।
সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নির্বাচন কমিশনার আসন্ন নির্বাচনগুলোর প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কথা তুলে ধরে জানান, উপ-নির্বাচনগুলোতে ভোটারদের প্রক্রিয়া সহজ করতে আইটি-সাপোর্টেড পোস্টাল ভোটিং ব্যবস্থার বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারচুপি রোধে সব ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের বডি ওর্ন ক্যামেরার সংখ্যা বহুগুণ বাড়ানোর পাশাপাশি যেকোনো বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন এবং ভোটকেন্দ্রের অবকাঠামোগত সমস্যা দূর করার মাধ্যমে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর।