৭ জুন মানবন্ধন ও নাগরিক সমাবেশের ঘোষণা
জনগণের আমানত, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরাম।
শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, জনগণের আমানত একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের জীবনব্যাপী সঞ্চয়, সন্তানের শিক্ষা, পরিবারের ভবিষ্যৎ, ব্যবসায়িক উদ্যোগ এবং বার্ধক্যের নিরাপত্তা। সুতরাং দেশের ব্যাংকিং খাত, বিশেষত বৃহৎ জনগোষ্ঠীর আস্থার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা প্রতিষ্ঠানসমূহের স্থিতিশীলতা, স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।
আমরা মনে করি, দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, আর্থিক নিরাপত্তা এবং জনগণের আস্থা রক্ষার প্রশ্নে সবার উচিত দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা। আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতি জনগণের বিশ্বাস অক্ষুণ্ণ রাখা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা সময়ের অপরিহার্য দাবি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের শীর্ষস্থানীয় ওলামায়ে কেরামের উদ্যোগে আগামী রোববার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে একটি শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন ও সমন্বিত নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দেশের সর্বস্তরের আলেম-উলামা, আমানতকারী, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সচেতন নাগরিকদের উপস্থিত থেকে জনগণের আমানতের নিরাপত্তা, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা এবং দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার পক্ষে সংহতি প্রকাশের জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হচ্ছে।
শীর্ষ আলেমরা আরো বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও গৌরবময় অধ্যায়। চার দশকেরও অধিক সময় আগে যখন সুদমুক্ত ব্যাংকিং ব্যবস্থা অনেকের কাছে কেবল একটি তাত্ত্বিক ধারণা ছিল, তখন কিছু দূরদর্শী ইসলামী চিন্তাবিদ, অর্থনীতিবিদ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তিত্ব ইসলামী অর্থনীতির নীতিমালার আলোকে একটি বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্নের বাস্তব রূপ আজ বাংলাদেশের ইসলামী ব্যাংকিং শিল্প, যার অন্যতম প্রধান ভিত্তি ও পথিকৃৎ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। সারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দেশে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
আজ দেশের কোটি মানুষের আস্থা, লক্ষাধিক আমানতকারী, হাজারো উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, কৃষক, প্রবাসী এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা ওতপ্রোতভাবে জড়িত। শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি অর্থায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ, রেমিট্যান্স আহরণ এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এই খাতের অবদান দেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
তারা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থা কেবল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসায়িক কাঠামোর নাম নয়; এটি একটি নৈতিক অঙ্গীকার, যেখানে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাস্তব উৎপাদন, ব্যবসা, অংশীদারিত্ব এবং সামাজিক কল্যাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হয়। এ কারণে ইসলামী ব্যাংকিং আজ শুধু মুসলিম বিশ্বেই নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে।
তারা দেশের আলেম-উলামা, অর্থনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, ব্যবসায়ী সমাজ, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন—আসুন, আমরা সবাই মিলে জনগণের আমানত, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার প্রশ্নে সচেতনতা সৃষ্টি করি। মত ও পথের ভিন্নতা থাকতে পারে; কিন্তু জাতীয় স্বার্থ, জনগণের সম্পদ এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে আমাদের অবস্থান হওয়া উচিত ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল।
বিবৃতি স্বাক্ষরকারীরা হলেন- ইসলামী ব্যাংক শরীয়া কাউন্সিলের সাবেক সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান মাওলানা কামালুদ্দীন আব্দুল্লাহ জাফরী, ইসলামী ব্যাংকের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন, ইসলামী কানুন বাস্তবায়ন পরিষদের আমির ও সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা আবু তাহের জিহাদী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. শামছুল আলম, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুফতি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, ইসলামী ব্যাংক শরিয়াহ কাউন্সিলের সাবেক সেক্রেটারি ড. মাওলানা আব্দুস সামাদ, শরিয়াহ কাউন্সিলের সদস্য মাওলানা মহিউদ্দিন রব্বানী, অধ্যক্ষ ড. সামিউল হক ফারুকী, প্রফেসর আ.ন.ম. রশিদ আহমাদ মাদানী, ড. মাওলানা নুরুল্লাহ মাদানী, মুফতি ফয়জুল্লাহ আশরাফী, মাওলানা শাহ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দীকি, মুফতি ফয়জুল হক জালালাবাদী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন প্রমুখ।
এএস