৪৫তম বিসিএস রিপিট সংশোধন করে সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করা, ননক্যাডার পদে বৈষম্য বিলোপ ও ননক্যাডার রিচয়েস প্রদানের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে ‘৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরি প্রার্থীরা’। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্য পাদদেশে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এ সময় সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি জানিয়ে বলা হয়-যেহেতু ৪৪তম বিসিএস গেজেট প্রকাশিত হয়েছে অতএব এখন ৪৫তম বিসিএসের রিপিট ক্যাডার সংশোধনপূর্বক সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। ৪৫তম বিসিএস ননক্যাডার ফলাফল স্থগিতকরণপূর্বক বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের শূন্য পদ অধিযাচনের মাধ্যমে গ্রহণ করে ৪৫তম বিসিএস থেকে নন-ক্যাডারে সর্বোচ্চ নিয়োগ নিশ্চিত করে মেধাবীদের মেধার যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
পূর্ববর্তী ব্যাচের(৪৪তম বিসিএস) মতো পুনঃ পছন্দক্রম প্রদানের মাধ্যমে রিপিট ননক্যাডার সুপারিশ রহিত করে প্রকৃত বেকারদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় চাকরিপ্রত্যাশীরা আরো বলেন, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষায় ক্যাডার পদে প্রায় শতাধিক রিপিট ক্যাডার সুপারিশ করা হয়, এতে একই প্রার্থী বারবার একই পদে সুপারিশ প্রাপ্ত হচ্ছেন অথচ প্রকৃত বেকার মেধাবী প্রার্থী বেকার-ই থেকে যাচ্ছেন। ৪৪তম বিসিএসের ফলাফল সংশোধনপূর্বক তিনবার সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করলেও ৪৫তম বিসিএসের ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়।
তারা বলেন, ৪৫তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত ননক্যাডার পদ সংখ্যা ছিলো ১০২২টি কিন্তু সুপারিশ করা হয় মাত্র ৫৪৫ টি ননক্যাডার পদে। বাকি ৪৫৭টি ননক্যাডার পদ প্রত্যাহার করা হয়, অথচ জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী পিএসসি বেকার ও মেধাবী বান্ধব পিএসসি হওয়ার কথা ছিল, মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের জন্য নতুন পদ যোগ করার পরিবর্তে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত পদ হ্রাস করার মতো ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এটি নতুন বাংলাদেশের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
৪৫তম বিসিএস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয় ২০২২ সালে, দীর্ঘ তিন বছর অতিবাহিত হওয়ার পর ২০২৫ সালে রেজাল্ট প্রকাশ পায়, এতে দেখা যায়, উচ্চ গ্রেডে কর্মরত প্রার্থীদেরকে তুলনামূলক নিম্ন গ্রেডের ননক্যাডার পদে ২০২২ সালের পছন্দক্রম অনুসারে সুপারিশ করা হয়, যা অপ্রাসঙ্গিক এবং একই সঙ্গে অমানবিক ও বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির তৈরি করেছে।
এছাড়াও ৪৫তম বিসিএস ক্যাডার ফলাফল প্রকাশের ঠিক পরবর্তী দিন ননক্যাডার চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়, যা একটি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটায়। ক্যাডারে সুপারিশ প্রাপ্তদের সম্পূরক ফলাফল প্রকাশ করার পূর্বে ননক্যাডার সুপারিশ করা একটি বিধিবহির্ভূত এবং জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, আমাদের পূর্ববর্তী ব্যাচ (৪৪তম বিসিএস) প্রার্থীদের ৪১৩৬ টি ননক্যাডার পদে নিয়োগ প্রদান করা হয় অথচ ৪৫তম বিসিএস প্রার্থীদের মাত্র ৫৪৫ টি পদ প্রদান করা হয়, যা একটি নজিরবিহীন, বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদুষ্ট।
সমাবেশে ৪৫তম বিসিএস বৈষম্যের শিকার চাকরিপ্রার্থীবৃন্দের পক্ষে একরামুল হক সহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।