বিতর্কিত ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনের আওতায় নাগরিকদের হয়রানি বন্ধের দাবিতে এক প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পলিটিক্যাল থিংকারের (বিপিটি) এ সভা করে।
সংগঠনের কো-অর্ডিনেটর ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর নবীর সভাপতিত্বে প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন- জুলাই আন্দোলনের সংগঠক ও সাবেক ছাত্রনেতা জামাল উদ্দিন, বিপিটির স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও সহকারী অধ্যাপক রায়হান চৌধুরী ও বিপিটির মিডিয়া সেলের সদস্য জাফর আহমেদ।
সভাপতির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. নুর নবী বলেন, গত ১ মাসে ছয়জন নাগরিককে শুধু সোস্যাল মিডিয়ায় সরকারের সমালোচনা করে পোস্ট দেওয়া ও অন্যের কন্টেন্ট শেয়ারের ঘটনায় গ্রেপ্তার কোনো স্বাভাবিক ঘটনা নয়। এটা সরকারের আগামী দিনে নাগরিকদের কন্ঠরোধের প্রচেষ্টার পূর্ব আলামত।
বর্তমান প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রী পরিষদের অনেকেই হাসিনার ডিজিটাল সিকিউরিটি এক্টের দ্বারা নিষ্পেষিত। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অনেকেই গত ১৭ বছর বিদেশে পালিয়ে বেড়িয়েছেন। তারা সে সব দেশে নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকার সম্পর্কে জানেন এবং ফ্যাসিবাদের সময় সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে বিগত সরকারের অনৈতিক কাজের সমালোচনা করার সুযোগ গ্রহণ করেছেন। অথচ আজকে তারা ক্ষমতায় বসেই নাগরিকদের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার হীন চেষ্টায় লিপ্ত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের অনুকরণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে সরকারের সমালোচনাকারীদের রাতের আঁধারে তুলে নিয়ে যাচ্ছেন, ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার করে দীর্ঘ সময় থানায় রেখে আদালতে তুলছেন। সরকারদলীয় নেতাকর্মীরা সমালোচকদের বাড়ি অফিসে হামলা করে মব সৃষ্টি করছেন। এটা প্রকারান্তরে মানুষের বাকস্বাধীনতা কেড়ে নিয়ে ভয়ের সংস্কৃতি চালু করার অপচেষ্টা। আমরা অনতিবিলম্বে এহেন কাজে জড়িত অতি উৎসাহীদের থামাতে সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- জুলাই যোদ্ধা আরিফ বিল্লাহ, সাবেক ছাত্রনেতা ও বিপিটির সদস্য মোরশেদ আলম প্রমুখ।