সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে দেশের স্বার্থ ও গণতন্ত্রের সুরক্ষায় সরকার এবং বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। একই সঙ্গে কৃষকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সার ব্যবস্থাপনায় কোনো ধরনের অনিয়ম, কালোবাজারি বা সংকট বরদাশত করা হবে না বলেও জানান তিনি। বুধবার সংসদে তিনি এ কথা বলেন।
টুকু সংসদকে ‘মজলুমের পার্লামেন্ট’ উল্লেখ করে দেশের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি তার দীর্ঘ ছাত্র রাজনীতির স্মৃতিচারণ করেন। এ সময় তিনি তাদের দলের মূল চেতনা—‘কৃষক বাঁচলে বাঁচবে দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—স্লোগানটি পুনর্ব্যক্ত করেন।
টুকু বলেন, বর্তমানে মাঠে থাকা রোপা আমন ধান সর্বোচ্চ কুশি ও থোড় পর্যায়ে রয়েছে। এ সময়ে ইউরিয়া বা অন্যান্য সারের অতিরিক্ত ব্যবহারের তেমন প্রয়োজন নেই। সামনে রবি মৌসুমকে কেন্দ্র করে সার সরবরাহ ও মজুদের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সার ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও কালোবাজারি ঠেকাতে দেশের ৬৪টি জেলায় ৬৪টি মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে দুইজন যুগ্ম সচিব ও দুইজন উপসচিবের তত্ত্বাবধানে এসব সেলের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, কৃষকের দোরগোড়ায় সার পৌঁছে দিতে প্রায় ৮ হাজার নতুন ডিলার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ডিলার প্রত্যেকে দুজন করে সাব-ডিলার নিয়োগ করতে পারবেন। এতে নতুন করে প্রায় ১৬ হাজার ডিলার যুক্ত হবে বলে জানানো হয়। এর আগে দেশে খুচরা ডিলারের সংখ্যা ৩১ হাজারের বেশি ছিল বলেও বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’-এর কার্যকারিতা তুলে ধরে টুকু বলেন, টাঙ্গাইল জেলায় প্রথম এই কার্ডের উদ্বোধন করা হয়। জমির আয়তন অনুযায়ী সারের প্রয়োজনীয় পরিমাণ নির্ধারণের মাধ্যমে অতিরিক্ত সার ব্যবহার ও অপচয় বন্ধ করা এবং কৃষকদের উৎপাদন সহায়তা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করা হয়।
সার নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় অনিয়ম বা অভিযোগ থাকলে তা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট টিমকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়।
এআরবি