অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন সংস্কারের এই সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন না হওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সততা নিয়ে অর্থ উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্যকে অন্যায়, অসংগত ও কুরুচিপূর্ণ উল্লেখ করে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কাউন্সিলের সভাপতি একেএম মাসুম বিল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এ সময় কাউন্সিলের নেতাদের পাশাপাশি নীল, হলুদ ও সবুজ দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ব্যাংক খাতের অনিয়মের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে দায়ী করা হবে, অথচ তাকে স্বায়ত্তশাসন দেওয়া হবে না—এটা হতে পারে না। তারা স্বায়ত্তশাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন—উভয়ই চান। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জবাবদিহি সরকারের কাছে নয়, সংসদীয় কমিটির কাছে থাকবে—এমন ব্যবস্থার দাবি জানান তারা। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই দাবিতে স্মারকলিপিসহ বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তারা আরো বলেন, ড. ইউনূসের মতো একজন প্রধান উপদেষ্টা, সাবেক গভর্নরকে অর্থ উপদেষ্টা হিসেবে পাওয়া এবং ড. আহসান এইচ মনসুরের মতো একজন অর্থনীতিবিদ গভর্নর থাকার পরও বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার ও ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক।
কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণ বলেন, সম্প্রতি এক আলোচনায় অর্থ উপদেষ্টা বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে অন্যায়, অসংগত ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মর্যাদাহানি করেছে এবং নিবেদিতপ্রাণ কর্মকর্তাদের মনোবলে আঘাত দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের অসততা নিয়ে প্রশ্ন তোলার ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে।
এক প্রশ্নের জবাবে কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, স্বায়ত্তশাসন হলে সরকার ঋণ নিতে পারবে না—এমন ধারণা ভুল। তবে প্রক্রিয়ায় কিছুটা পরিবর্তন আসবে। সরকার একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ঋণ নিতে পারবে, কিন্তু এর বেশি নিতে হলে সংসদে যেতে হবে। পাশাপাশি আইন সংশোধনের সঙ্গে সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসন, স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া সব উপদেষ্টার নিয়োগ বাতিল এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে গভর্নরের সক্রিয় সময় ও মনোযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।