জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৫টায় জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দেওয়া প্রথম ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের দুর্দশা নিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অধিকারসহ ন্যায্য দাবির প্রতি বাংলাদেশ আবারও তার দৃঢ় সমর্থন জানাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তিপ্রিয় জাতি হিসেবে বাংলাদেশ পূর্ণাঙ্গ ও সাধারণ নিরস্ত্রীকরণ, পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশ্বজুড়ে চলমান সংঘাতের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধ ও সংঘাতের কারণে বহু দেশে অশান্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং মানবিক সংকট আরও গভীর হচ্ছে।
তিনি বলেন, যেকোনো সংঘাতের সমাধান আলোচনা, কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে হওয়া উচিত। বাংলাদেশ এমন একটি শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বিশ্বব্যবস্থা দেখতে চায়, যেখানে মারণাস্ত্রের পরিবর্তে যুক্তি, কূটনীতি, শিক্ষা ও মানবতা পরিবর্তনের হাতিয়ার হবে।
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অব্যাহত ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নারী শিক্ষা, শিশু ও নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুষ্ঠু ব্যবহারের বিষয়েও বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন।