চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া হলে দেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত সার্বভৌমত্বের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-সিসিটি ইজারা: বাংলাদেশের অর্থনীতি, জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের ভবিষ্যৎ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তারা এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
চূড়ান্ত ইজারা চুক্তির আগেই কনটেইনার হ্যান্ডলিং চার্জ প্রায় ৩৭ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এই মূল্যবৃদ্ধি আমদানি-রপ্তানি ব্যয় বৃদ্ধি করবে এবং শেষ পর্যন্ত শিল্প উৎপাদন ও ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বন্দর সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ভবিষ্যৎ অপারেটরদের জন্য একটি উচ্চ আয়ের পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যেই এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে।
বক্তারা বলেন সংসদে এই বিষয়ে কি আলোচনা হয়েছে? হয় নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় রোড মার্চে সাধারণ জনগণের দাবি ছিল এই বন্দর ইজারা দেওয়া যাবে না। সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলি, চোখের কালো চশমা ফেলে দিয়ে এই পথ পরিত্যাগ করেন। আমাদের দেশের সম্পদ ও নিরাপত্তা আমরাই রক্ষা করব। যারাই ক্ষমতায় যায় তারাই নিজেদের দেশের মালিক ভেবে বসে। ভূপ্রাকৃতিক অবস্থানের কারণেই ভারত ও চায়না আমাদের আশপাশে রয়েছে। এখন মার্কিন একটি খুঁটি গাড়তে চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের ভূমি যেন ক্ষমতার জন্য রণক্ষেত্র না হয়ে ওঠে। আমি এই বিষয় নিয়ে আশঙ্কা করছি। চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে ডিপি ওয়ার্ল্ডের এই চুক্তি শেষ কথা নয় বরং নিজেরা একটা চক্রের মাধ্যমে পরে গেছি।
তারা আরও বলেন, বিদেশি অপারেটর এলে দুর্নীতি কমবে-এমন ধারণা প্রায়ই প্রচার করা হয়। কিন্তু দুর্নীতির মূল কারণ চট্টগ্রাম বন্দরের প্রশাসনিক দুর্বলতা, জবাবদিহির অভাব এবং তদারকির ঘাটতি। বন্দর প্রশাসন দক্ষ, স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত হলে দেশীয় ব্যবস্থাপনাতেই দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। একইভাবে কনটেইনার জট বা বন্দরের ধীরগতির জন্য শুধু বন্দরকে দায়ী করা যায় না। কাস্টমসের ডকুমেন্টেশন, শুল্কায়ন প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বিভিন্ন সংস্থার অনুমোদন প্রক্রিয়াও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. আবু সাঈদ খান বলেন, ব্রিটিশ শসন আমলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরে স্বাধীনতা যুদ্ধ করছিল সূর্য সেন। স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য শুধুমাত্র চট্টগ্রাম নয় বরং চট্টগ্রাম দিয়ে শুরু করেছে। আমার মা মটি মোহনা কাউকে কেড়ে নিতে দিব না।
আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন- চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম বন্দর সিবিএর সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লা বাহার, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান প্রমুখ।