হোম > জাতীয়

৩০৫ জনের প্রার্থিতা প্রত্যাহার, লড়াইয়ে ১,৯৬৭ জন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন

আমার দেশ অনলাইন

ছবি: সংগৃহীত

নির্বাচনি প্রতীক পেয়ে আগামীকাল থেকেই ভোটের লড়াইয়ে নামবেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। গতকাল মঙ্গলবার প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে নির্বাচনের মাঠ থেকে ৩০৫ জন সরে যাওয়ায় চূড়ান্ত লড়াইয়ে ১ হাজার ৯৬৭ জনের মতো প্রার্থী রয়েছেন।

এর মধ্যে বিএনপির ২৯০ জন, জামায়াতে ইসলামীর ২১৬, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩০, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৯, জাতীয় পার্টির (জাপা) ১৯৬ এবং গণঅধিকার পরিষদের ৯২ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। নির্বাচনে তিন শতাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে অর্ধশতাধিক প্রার্থী বিএনপির বিদ্রোহী বলে জানা গেছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও স্বতন্ত্র হয়ে ভোটযুদ্ধে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, গতকাল ছিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। এদিন ভোটের মাঠ থেকে তিন শতাধিক প্রার্থী সরে দাঁড়ান। রিটার্নিং কর্মকর্তারা আজ বুধবার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের অনুকূলে দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। স্বতন্ত্র প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনের তফসিলভুক্ত নির্ধারিত প্রতীকগুলো থেকে পছন্দমতো প্রতীক বাছাই করে নিতে পারবেন। তবে একই প্রতীক একাধিক প্রার্থীর পছন্দের হলে লটারির মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রচার কার্যক্রমের শুরুর দিনই বিএনপি-জামায়াতসহ সব রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু করবে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেট থেকে নির্বাচনি প্রচার শুরু করবেন। অপরদিকে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নিজ নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনে জনসভার মাধ্যমে নির্বাচনি প্রচার কার্যক্রম শুরু করবেন। আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া নির্বাচনি প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশন গত ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বহুল প্রত্যাশিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে চলবে ভোটগ্রহণ । ব্যালট পেপারের মাধ্যমে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হবে।

এদিকে, গণভোটের পক্ষে সরকারের তরফ থেকে ব্যাপক প্রচার শুরু করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গত পরশু ভিডিও বার্তায় দেশবাসীকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। সরকারের অন্য উপদেষ্টারাও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল সফর করে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গঠন করছেন। সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকেও গণভোটের পক্ষে প্রচার চালানো হচ্ছে।

এছাড়া এবার প্রথমবারের মতো প্রবাসী ও দেশের ভেতরে তিন ধরনের ব্যক্তির জন্য অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে পোস্টাল ব্যালটে ভোট হচ্ছে। এরই মধ্যে ১৫ লাখ ৩৩ হাজারের বেশি নাগরিক নিবন্ধন করেছেন।

নির্বাচনে ৬০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫১টির প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও শেষ মুহূর্তে নির্বাচনে রয়েছে ৪৯টি দল। নির্বাহী আদেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত হওয়ায় দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটের কয়েকটি দলও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না।

ইসির তথ্যানুযায়ী, গত ৪ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা ৩০০ নির্বাচনি এলাকায় দুই হাজার ৫৮৫টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে এক হাজার ৮৫৮টি বৈধ এবং ৭২২৬টি বাতিল ঘোষণা করেন। তবে এর মধ্যে পাবনা-১ ও পাবনা-২ আসনের নির্বাচন আদালতের আদেশে সাময়িকভাবে স্থগিত হয়েছিল। পরে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে ভোটের তারিখ ঠিক রেখে ওই দুটি আসনের পুনঃতফসিল ঘোষণা করে ইসি। আগামী ২৬ জানুয়ারি এ দুটি আসনের চূড়ান্ত প্রার্থীর সংখ্যা জানা যাবে।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইসিতে ৬৪৫টি আপিল আবেদন দায়ের করা হয়। আপিলে ৪৩১ জন প্রার্থিতা ফেরত পেলে প্রার্থী দাঁড়ায় দুই হাজার ২৮৯ জনে। এর মধ্যে গতকাল ৩০৫ জন প্রত্যাহার করলে চূড়ান্ত প্রার্থী দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৯৬৭ জনে। পাবনা-১ ও ২ আসনের প্রার্থী যুক্ত হলে এবং উচ্চ আদালতে আপিল করা প্রার্থীদের ক্ষেত্রে নতুন সিদ্ধান্ত এলে এই সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে।

যেসব দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে

নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০টি দলের মধ্যে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে ৪৯টি। দলগুলো হলো-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, জাতীয় পার্টি-জেপি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, গণতন্ত্রী পার্টি, জাতীয় পার্টি (জাপা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, জাকের পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি), জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, গণফোরাম, গণফ্রন্ট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (বাংলাদেশ ন্যাপ), বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, ইসলামী ঐক্যজোট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-বিএমএল, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (মুক্তিজোট), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট-বিএনএফ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএম, বাংলাদেশ কংগ্রেস, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (বাংলাদেশ জাসদ), বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি-বিএসপি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি), নাগরিক ঐক্য, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ রিপাবলিকান পার্টি (বিআরপি), জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জনতার দল, আমজনতার দল, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি (বিইপি) এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

নির্বাচনের মাঠে নেই যেসব দল

নির্বাচনে ১১টি নিবন্ধিত দল অংশ নেয়নি। দলগুলো হলোÑবাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, আওয়ামী লীগ (নিবন্ধন স্থগিত), বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্প ধারা বাংলাদেশ, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম), জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদ।

বিএনপির আসন বণ্টন

সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯০টি আসনে বিএনপির প্রার্থী রয়েছে। দলটি শরিকদের জন্য আটটি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এছাড়া যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের আটজন নেতা বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষে ভোট করছেন। নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় বর্তমানে কুমিল্লা-৪ ও চট্টগ্রাম-২ আসনের বর্তমানে কোনো প্রার্থী নেই। এই দুই আসনের প্রার্থীরা উচ্চ আদালতে আপিল করছেন বলে জানা গেছে। এদিকে বিএনপির জোটভুক্ত পাঁচটি দলের আটজন প্রার্থী নিজস্ব প্রতীকে ভোট করছেন। এসব আসনে ধানের শীষের কোনো প্রার্থী থাকছে না। এগুলোর মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম চারটি আসনে (সিলেট-৫: মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুক, নীলফামারী-১: মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪: মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ : মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব) এবং গণঅধিকার পরিষদ (পটুয়াখালী- ৩: নুরুল হক নূর), বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (ঢাকা-১২: সাইফুল হক), গণসংহতি আন্দোলন (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: জোনায়েদ সাকি) ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির-বিজেপি (ভোলা-১ আন্দালিভ রহমান পার্থ) একটি করে আসনে ভোট করছে। এছাড়া শরিকদের মধ্যে নড়াইল-২ আসনে এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, যশোর-৫ আসনে ইসলামী ঐক্য জোটের রশীদ আহমদ (রশিদ বিন ওয়াক্কাস), ঢাকা-১৩ আসনের এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ, কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বিএলডিপি’র (একাংশ) চেয়ারম্যান শাহাদাত হোসেন সেলিম, হবিগঞ্জ-১ আসনে রেজা কিবরিয়া, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান এবং কুমিল্লা-৭ আসন থেকে এলডিপির মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ বিএনপিতে যোগ দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ নিজের দল বিলুপ্ত করে এবং কেউ পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।

এদিকে মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য বিএনপি জোটের সঙ্গে থাকলেও বনিবনা না হওয়ায় শেষ মুহূর্তে দলটি বের হয়ে গেছে। মাহমুদুর রহমান মান্নাকে বগুড়া-২ আসন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। দলটি বর্তমানে ১২টি আসনে নিজস্ব প্রতীকে নির্বাচন করছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে মান্না বগুড়া-২ ও ঢাকা-১৮ আসনে নির্বাচন করছেন।

১০ দলীয় জোটের আসন বণ্টন

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১০ দলীয় জোট ২৯৯টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। ১১ দলীয় জোট থেকে বের হয়ে যাওয়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের সম্মানে বরিশাল-৫ আসনে প্রার্থী দেয়নি। এ জোটের দলগুলোর মধ্যে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে ২১৬টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ৮৩টি আসন শরিকদের ছেড়ে দিয়েছে। তবে, শরিকদের ছাড়লেও কয়েকটি আসন উন্মুক্ত রেখেছে। অন্য শরিক দলগুলোর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২৩, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৭, খেলাফত মজলিস ১১, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি দুটি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি তিনটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুটি আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ভোট করছে। এনসিপি সমঝোতায় ৩০টি আসন পেলেও দুটিতে শরিকদের প্রার্থী রয়েছে।

খেলাফত মজলিস সমঝোতার ১১টি আসনের বাইরে উন্মুক্ত হিসেবে নয়টি আসনে প্রার্থী রেখেছে। এবি পার্টিও কয়েকটি আসনে প্রার্থী রেখেছে। এদিকে জোটের সদস্য বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন জোটের থেকে কোনো আসন না পেলেও দলটি আটটি আসনে তাদের প্রার্থীদের প্রত্যাহার করেনি।

এই জোটের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। তবে তারা নির্বাচনে জোটের পক্ষে সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই জোটের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকলেও সিট ভাগাভাগি ইস্যুতে তারা জোট থেকে বেরিয়ে এককভাবে নির্বাচন করছে। দলটি ২৫৯টি আসনে ভোট করছে।

প্রচারে বিএনপি-জামায়াত

বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে প্রচার শুরু করবেন। আগামীকাল সকাল ৯টায় তিনি মাজার জিয়ারত করে সকাল ১১টায় তিনি সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে প্রথম নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। এরপর তিনি মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জের ভৈরব, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে জনসভায় অংশ নিয়ে সড়ক পথে ২৩ জানুয়ারি ঢাকায় ফিরবেন। আসার পথে তিনি একাধিক পথসভায়ও অংশ নিতে পারেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। নির্বাচনি জনসভায় অংশ নিতে তারেক রহমান আজই সিলেট যাচ্ছেন বলে বিএনপির সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে প্রচারের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সফর করবেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। আগামীকাল ঢাকা মহানগরীর মধ্য দিয়ে এই সফর শুরু হবে। এরপর তিনি দুদিনের সফরে উত্তরবঙ্গে যাবেন বলে দলটির প্রচার বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। ডা. শফিকুর আগামীকাল তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১৫ আসনভুক্ত মিরপুর ১০ নম্বর গোলচক্কর এলাকায় গণসংযোগ ও নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। পরদিন ২৩ জানুয়ারি তিনি দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও রংপুরে নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেবেন। জামায়াতের আমির ২৪ জানুয়ারি সকালে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারত করবেন। পরে গাইবান্ধায় জনসভায় অংশ নেবেন।

এবার সংসদ নির্বাচনে পৌনে ১৩ কোটি ভোটারের এ নির্বাচনে থাকছে ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র, যাতে থাকবে দুই লাখ ৪৫ হাজারের বেশি ভোটকক্ষ। ৩০০ আসনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের ক্ষেত্রে ভোটকেন্দ্রের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রতিটি কেন্দ্রে ১৬ থেকে ১৮ জন নিরাপত্তা সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ ও গণভোট একসঙ্গে হবে বলে প্রতি ভোটকক্ষে সিল দেওয়ার গোপন কক্ষ (মার্কিং প্লেস) বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, নিরাপত্তার নিরিখে ৫৯ শতাংশ ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিতে রয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র আট হাজার ৭৮০টি, গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি ও সাধারণ ভোটকেন্দ্র ১৭ হাজার ৪৩৩টি। ভোটে সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর থাকবে এক লাখ সদস্য, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমানবাহিনীর তিন হাজার ৭৩০, পুলিশের এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫ জন, র‌্যাবের সাত হাজার ৭০০ জন এবং সাপোর্ট সার্ভিস হিসেবে ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য থাকবেন।

নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণায় কিছুটা দেরি হতে পারে: প্রেস সচিব

এবারের নির্বাচন ভবিষ্যতের জন্য আদর্শ তৈরি করবে

ইমাম-মুয়াজ্জিন ও খাদেমের বেতন নির্ধারণ করে দিল সরকার

মসজিদ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা ২০২৫ এর গেজেট প্রকাশ

সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব

হারিয়ে যাওয়া ১০৫টি ফোন উদ্ধার করে মালিকদের বুঝিয়ে দিল পুলিশ

জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ফারাহ মাহবুব

আরো ৮ জেলায় চালু হলো ই–বেইলবন্ড সেবা

‘কর্মীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে দায় প্রার্থীদের ওপরই বর্তাবে’

পে-স্কেলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে আজ