শিক্ষা মন্ত্রাণলয়ের মন্ত্রীত্বকে ইবাদত মনে করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একইসঙ্গে এই মন্ত্রণালয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে সে কাজ ‘সদকায়ে জারিয়া’ হবে বলে মনে করেন তিনি।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর একটি হোটেলে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র ও বিকাশ আয়োজিত ‘যৌথ উদ্যোগে বইপড়া কর্মসূচির ১২ বছর’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত প্রীতি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করছি। আমার মনে হয়, তার মূল বিষয় তিনটি –প্রথমটি শিক্ষা, দ্বিতীয়টি শিক্ষা এবং তৃতীয়টিও শিক্ষা। শিক্ষাই হচ্ছে আমাদের জাতির উন্নয়নের চাবিকাঠি। আমি দায়িত্ব পেয়েছি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের। আমি অন্য কোন মন্ত্রণালয়ের মতো এটাকে মনে করি না। আমি মনে করি এটা আমার ইবাদতের মন্ত্রণালয়। এই দায়িত্বকে ইবাদত মনে করি। এই মন্ত্রণালয়ে সঠিকভাবে কাজ করতে পারলে জাতি গঠন করা সম্ভব। আর এই কাজের বিনিময়ে যারা উপকৃত হবে তারা আমার আত্মার জন্য দোয়া করবে, এটাই হবে সাদকায়ে জারিয়া। আমি এই বিশ্বাস থেকেই কাজ করি।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতেই হবে, এর কোনো বিকল্প নেই। জনসংখ্যা আমাদের জাতির জন্য কোনো অভিশাপ নয় -বিশ্বের উন্নত দেশগুলো জনসংখ্যাকে সম্পদ হিসেবেই বিবেচনা করে। আমাদের দেশে মৃত্যুহার কমছে, জনসংখ্যা বাড়ছে, আর এই বিপুল জনশক্তিই আমাদের বিশ্ব নেতৃত্বে নিয়ে যেতে পারে। এই তরুণ প্রজন্মই আল্লাহর দেওয়া সবচেয়ে বড় নেয়ামত, যারা আমাদের সামনে বসে আছে। আমি আন্তরিকভাবে বিশ্বাস করি আগে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে, তারপর দেশকে গড়ে তুলতে হবে। এভাবেই আমাদের ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। আমার বিশ্বাস, আজ যারা আমার সঙ্গে এখানে বসে আছেন, তারাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবেন। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে বসাতে হবে এবং উচ্চমানের শিক্ষিত জনগোষ্ঠী করে তুলতে হবে –ইনশাআল্লাহ আমরা এই লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।
এ সময় তিনি তরুণ সমাজকে মাদক ও মোবাইল আসক্তি থেকে দূরে রাখতে ভালো বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপস করেন।
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সভাপতি অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সাঈদ ভিডিও বার্তায় বলেন, মানুষ শৈশবে যা দেখে, সারাজীবন তা পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করে। যদি সন্তানদের বাবা মায়েরা উৎসাহ দেয়, তাহলে পরের জেনারেশন ভালো হবে। শুধু দারিদ্রের জন্য কেউ জ্ঞান পাবে না এটা আমার কাছে দুঃখজনক। বাংলাদেশের অনেক সমস্যা আছে। এতো ছোট দেশ এবং এতো বেশি জনসংখ্যা একে সমৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাওয়া কঠিন। তবে যে যার জায়গা থেকে প্রত্যেকে চেষ্টা করলে এটা অসম্ভব নয়।
মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান বিকাশের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কামাল কাদীর বলেন, বিকাশ এখনো বিদেশি নয় বরং বাংলাদেশিদের নিয়েই তাদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করছে। শিক্ষার মান যদি ঠিক না রাখা যায়, তাহলে এটা বড় সমস্যা তৈরি করবে।