সাংবাদিকদের ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণেভাটের দিন ভোট কেন্দ্রের ৪০০ মিটারে এলাকায় সাংবাদিকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের জারি করা নিষেধাজ্ঞাকে প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন কমিশন ঘেরাওয়ের ঘোষণা করেছে জুলাই রেভল্যুশেনারী জার্নালিস্ট অ্যালায়েন্সের (জেআরজেএ) সাধারন সম্পাদক ইসরাফিল ফারজী।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন থেকে যে প্রজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে তা সরাসরি নাগরিক অধিকারে হস্তক্ষেপ। আমরা মনে করছি এটি অযৌক্তিক, বৈষম্যমূলক এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পরিপন্থী। ইসির এই সিদ্ধান্তকে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি।
ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন সাংবাদিকতার মৌলিক সরঞ্জাম। নির্বাচনকালীন বাস্তবতা দ্রুত তুলে ধরা, জনগণকে তাৎক্ষণিক তথ্য পৌঁছে দেওয়া—এসব দায়িত্ব পালনে মোবাইল ব্যবহারে বাধা দেওয়া মানে ইচ্ছাকৃতভাবে সংবাদপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা। এটি শুধু সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে হস্তক্ষেপ নয়, বরং নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ক্ষুণ্ন করার শামিল। অতীতেও হাসিনা যুগে এভাবে মোবাইল ফোন নিয়ন্ত্রণ করে দিনের ভোট রাতে করা হয়েছে, তিনটি জাতীয় নির্বাচনকে বিশ্বব্যাপী প্রশ্নবৃদ্ধ করা হয়েছে। এবারও অতীতের মতো কিছু ঘটছে কিনা জনমনে প্রশ্ন উঠেছে।
মনে রাখা উচিৎ গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ন্ত্রণ নয়, সহযোগিতা পাওয়া উচিত। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা কখনোই নির্বাচনী শৃঙ্খলার জন্য হুমকি নয়; বরং স্বাধীন সাংবাদিক উপস্থিতিই সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম নিশ্চয়তা। নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্ত বাস্তবতা-বিবর্জিত এবং স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের সাংবিধানিক চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি—আজ বিকেল ৫টার মধ্যে এই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত না এলে সাংবাদিক সমাজ নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে। এর মাধ্যমে যদি ভিন্ন পরিবেশ তৈরি হয় তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার নির্বাচন কমিশনের। দাবী আদায়ে আমরা অনড় ও ঐক্যবদ্ধ।
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি জনগণের জানার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। সেই অধিকার রক্ষায় সাংবাদিক সমাজ সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ও দৃঢ় অবস্থানে থাকবে।