কাতারের সাবেক আমির শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানীর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাতীয় সংসদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে শোক প্রস্তাব উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শোক প্রস্তাবটি ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ভোটে দিলে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতভাবে পাশ হয়। পরে এক মিনিটের নীরবতা ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শোক প্রস্তাবে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানী ছিলেন সমকালীন বিশ্বের অন্যতম প্রজ্ঞাবান ও দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তাঁর নেতৃত্বে কাতার একটি দ্রুত উন্নয়নশীল, আধুনিক ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জ্বালানি, অবকাঠামো, অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে তাঁর যুগান্তকারী অবদান কাতারকে বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে অধিষ্ঠিত করেছে। এ কারণেই তিনি ‘আধুনিক কাতারের স্থপতি’ হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।
তিনি বলেন, শেখ হামাদ বিন খলিফা আল থানীর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়। বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক প্রবাসী কর্মীর কর্মসংস্থান, দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং পারস্পরিক উন্নয়নে তাঁর অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে কাতার রাষ্ট্র একজন মহান রাষ্ট্রনায়ককে হারিয়েছে এবং বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় হারিয়েছে শান্তি, উন্নয়ন ও সহযোগিতার একজন নিবেদিতপ্রাণ প্রবক্তাকে।
প্রস্তাবে কাতারের বর্তমান আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানীর প্রশংসা করে বলা হয়, সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য সংকটকালীন সময়ে কাতার নিজে বিপদগ্রস্ত হওয়া সত্বেও বাংলাদেশের শ্রমিক-কর্মচারীদের পাশে যেভাবে মানবিকতা নিয়ে দাঁড়িয়েছে তা আমাদের হৃদ নাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান আমিরের এই মানবিক কর্মকাণ্ড ও মহানুভবতায় বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।
প্রস্তাবে বলা হয়, প্রস্তাবের অনুলিপি কাতারের জাতীয় পরিষদ, বাংলাদেশে কাতার দূতাবাস এবং কাতার সরকারের নিকট পাঠানোর অনুরোধ করা হয়।