প্রধানমন্ত্রীর স্ট্র্যাটেজি ও তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত সময় পরিবর্তন হতে পারে। নির্বাচন কমিশন সাংবিধানিকভাবে দুটো নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত রয়েছে। এর একটা হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, আরেকটি হচ্ছে সংসদ নির্বাচন। এর বাইরে অন্য যত নির্বাচন আছে, সেগুলো সরকারের সঙ্গে কোলাবোরেট করেই নির্বাচন কমিশনকে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে সরকারের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ড নিয়ে করা নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।
এদিকে আজ সকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন কখন হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য সরকারের কাছে নেই।
অপরদিকে নির্বাচন কমিশন নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। এর পাল্টা জবাব হিসেবেই মীর শাহে আলম সরকারের কাছে এমন তথ্য নেই বলে জানিয়েছেন, তেমনটাই বলাবলি হচ্ছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যেহেতু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন এ ব্যাপারে সরকারের কাছে তথ্য নেই এবং নির্বাচন কমিশন তাদের মতো করে তারিখ ঘোষণা করেছে। আমরা এই বক্তব্যটাকেই বস্তুনিষ্ঠ এবং সঠিক ধরে নেব।
প্রতিমন্ত্রী জানেন, সরকারের মূল সিদ্ধান্ত কী? আমি আবারও বলছি, এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের সঙ্গে কোলাবোরেট করেই এটা করতে হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের মধ্যে গ্যাপ বা দূরত্ব আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্যাপ এভাবে আপনারা ইন্টারপ্রেট করতে পারেন, কিন্তু এই ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকারের সাথে আলোচনা করেই এটা করতে হবে। নির্বাচন কমিশনের হাতে যেভাবে সংবিধান দায়িত্ব দিয়েছে, ক্ষমতা দিয়েছে, তার মধ্যে সরকারের সাথে আলোচনার প্রশ্ন আছে। আমি জানি না, এক্স্যাক্টলি নির্বাচন কমিশন কী মিন (বুঝাতে) করতে চেয়েছেন। আমাদের মন্ত্রী যেভাবে বলেছেন, সেটাই আমরা গ্রহণ করব। এটাকে গ্যাপ হিসেবে দেখার কিছু আছে বলে মনে করি না। তাদের হয়তো এক ধরনের এক্সপেক্টেশন আছে।
উপদেষ্টা বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারের সিদ্ধান্ত এখানে গুরুত্বপূর্ণ। এটা সংসদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে নয়। এটা ভেরি ইম্পর্টেন্ট। নির্বাচিত সরকারকে তার টেনিউর (পূর্ণ মেয়াদ) ফুলফিল হতে হয়। সরকার আসলে এখানে কিছু করতে পারবে না। প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা আছে, রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করলে সরকার বা সংসদ যদি কখনও ভেঙে যায় তখন এই ব্যাপারে নির্বাচন কমিশনের একদম নিজস্ব এখতিয়ার আছে, নির্বাচনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার। ইসি সংবিধান ফলো করে যা যা করার তাই করবে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি যিনি আছেন, তিনি তো একসময় এই মন্ত্রণালয়ে ছিলেন। তিনি যে বক্তব্য দিতেন, সেটি কীভাবে দিতেন? তার মানে, এখানে সরকারের সিদ্ধান্তের প্রশ্ন আছে।
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কখনো আইন পরিবর্তন করে যদি বলা হয় যে, নির্বাচন সরকার করবে। নির্বাচন কমিশনকে আমরা এই দায়িত্ব দেব না। এরকম যদি সিদ্ধান্ত হয়, উই ক্যান ডু দ্যাট। কারণ সংবিধান বলছে দুটো তারা স্পন্টেনিয়াসলি পাবে সাংবিধানিকভাবে, বাকিগুলো আইন দ্বারা নির্ধারিত।
ইসি কি তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সময় উল্লেখ করে আইন ভঙ্গ করেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এভাবেও বলতে চাই না। সবচেয়ে ভালো হয়, আপনারা নির্বাচন কমিশনের কাছে একটু ক্ল্যারিফাই করুন।
তিনি বলেন, সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে সরকার কবে নাগাদ স্থানীয় সরকার নির্বাচন করবে। একটা টাইমলাইন তো আপনাদের কাছে জানানো হয়েছে। এটাকে ফলো করে সরকার নির্বাচন কমিশনের সাথে কোলাবোরেট করে নির্বাচনে যাবে। নির্বাচন তো করবেই, নির্বাচন তো হবেই, এটা নিয়ে তো কোনো কনফিউশনের কিছু নাই।
তিনি আরো বলেন, এই সময় সরকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো টাইমলাইন না। সুতরাং নির্বাচন কমিশন যেটা বলেছে, সেটা সরকার নিজে ভাবতে পারে ওখানে করব কি না। আবার আলোচনার মাধ্যমে এটা পেছাতে পারে, আগাতেও পারে, ইট কুড বি এনিথিং। নির্বাচন কমিশন যে তারিখ দিয়েছে ওই তারিখেই নির্বাচন হবেই, আবার হবেই না—ইউ ক্যান নট সে দ্যাট।
সরকার ও ইসি মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেল কি না প্রসঙ্গে উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রতিমন্ত্রী যেটা বলেছেন, সরকারের এরকম কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আমরা এটাতেই স্টিক করব। এটাকে আমরা এক ধরনের সংঘাতের মত করে দেখার চেষ্টা করছি, তা নয়। এটা এরকম কিছু আমি মনে করি না- যোগ করেন তিনি।