হোম > জাতীয়

শোকের ছায়া আর নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা: আতশবাজির আলোয় উত্তাল ঢাকার আকাশ

ওয়াসিম সিদ্দিকী

সংগৃহীত

রাষ্ট্রীয় শোকের গাম্ভীর্য আর পুলিশি কড়াকড়ির মধ্যেই ইংরেজি নতুন বছরের প্রথম প্রহর অতিবাহিত হলো। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশজুড়ে চলা তিন দিনের শোক এবং ডিএমপির কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রত্যাশা ছিল নিস্তব্ধ রজনীর। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা রাত ১২টা ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গেই রাজধানীর আকাশ জানান দিলো ভিন্ন বাস্তবতার। শোকের চাদর আর প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা—উভয়কেই বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আতশবাজির ঝলকানি আর ফানুসের আলোয় বর্ষবরণে মেতে উঠলো ঢাকা।

শোকের আবহে বার ও মদের দোকানগুলো আগেভাগেই বন্ধ ছিল, রাস্তায় ছিল না কনসার্টের কোনো আয়োজন। বাধ্য হয়ে মাটির পৃথিবী শান্ত থাকলেও আকাশের দখল নিয়েছিল নগরবাসী। গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি থেকে শুরু করে তেজগাঁও, মালিবাগ, মিরপুর ও উত্তরার মতো এলাকাগুলোতে মধ্যরাতে শুরু হয় আলোর উৎসব। পুলিশি টহলে প্রধান সড়কগুলো কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, পাড়া-মহল্লার ছাদগুলো হয়ে ওঠে উৎসবের মূল কেন্দ্রবিন্দু।

​রাতের আকাশ চিরে একের পর এক পটকা সঙ্গে ছিল বিকট শব্দের আতশবাজি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, অভিজাত এলাকা থেকে শুরু করে সাধারণ গলি—কোথাও কমতি ছিল না উদযাপনের। ফেসবুকে কেউ কেউ এই উৎসবকে ‘জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন, আবার কেউ শোকের সময় এমন উল্লাসে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তবে নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা যে সাধারণ মানুষ করেননি, তার প্রমাণ মিলেছে প্রতিটি এলাকার আকাশেই।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মঙ্গলবার রাতে গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছিল, শোক পালন ও জননিরাপত্তার স্বার্থে এবার কোনো ধরনের পটকা, আতশবাজি বা উন্মুক্ত জমায়েত সহ্য করা হবে না। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়। পুলিশ রাস্তায় যান চলাচল ও পথচারীদের জটলা নিয়ন্ত্রণে সফল হলেও, হাজার হাজার বাড়ির ছাদে চলা ব্যক্তিগত আয়োজন থামাতে অনেকটাই অসহায় ছিল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইরেনের শব্দের সঙ্গে পাল্লা দিয়েই যেন বেজেছে পটকা আর সাউন্ডবক্সের গান।

নগরবাসীর মধ্যে এই রাতটি নিয়ে ছিল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রাজনৈতিক কর্মী ও সচেতন নাগরিকদের একটি বড় অংশ শোকের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা থেকে বিরত ছিলেন। অনেকে নিজ নিজ বাসায় নিরবে সময় কাটিয়েছেন। অন্যদিকে, তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশের যুক্তি ছিল—রাষ্ট্রীয় শোকের জায়গা শ্রদ্ধার আসনে, কিন্তু নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর বৈশ্বিক রীতি বা পারিবারিক আনন্দ আয়োজনে দোষের কিছু নেই। ফলে অনেক পরিবারই ঘরোয়াভাবে কেক কেটে বা ছাদে বারবিকিউ পার্টির মাধ্যমে সময় পার করেছেন।

​শেষ পর্যন্ত, সরকারি বিধিনিষেধ আর ব্যক্তিগত আবেগের এক অদ্ভুত টানাপড়েনে কাটল ঢাকার এই রাত। একদিকে শোকের কালো ব্যাজ, অন্যদিকে আকাশে রঙিন আলোর খেলা—এই দ্বান্দ্বিক চিত্রের মধ্য দিয়েই ২০২৬ সালকে বরণ করে নিলো রাজধানী।

ভারত সফর ‘ফলপ্রসূ’ হয়েছে : হুমায়ুন কবির

উত্তরবঙ্গকে এগ্রো প্রসেসিং হাব করার পরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

চিহ্নিত লুটেরাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ আত্মঘাতী: টিআইবি

জাপানকে বাংলাদেশে মোটরগাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান : শিল্পমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ইসরাইল, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষ

হজ যাত্রীদের টিকেটের দাম কমলো ১২ হাজার টাকা

পহেলা বৈশাখ আমাদের আত্মপরিচয়ের এক অনন্য প্রতীক

আইজিপির সঙ্গে জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশনের সাক্ষাৎ

আমি জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড়াতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী