হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন পুলিশের সার্ভারে কারিগরি ত্রুটির কারণে প্রায় আধাঘণ্টা ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বন্ধ ছিল। বুধবার দুপুর ২টা ১৫ মিনিটে হঠাৎ সার্ভার বিকল হয়ে পড়ায় বহির্গমন ও আগমনী কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ে ফ্লাইটে ওঠা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েন অনেকে। এতে বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা ও যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, বুধবার নিয়মিত কার্যক্রম চলাকালীন দুপুরের পরপরই ইমিগ্রেশনের প্রধান সার্ভারে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ায় কাউন্টারে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সাময়িকভাবে পাসপোর্ট যাচাই-বাছাই ও সিল মারার কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হন।
অল্প সময়ের মধ্যেই কাউন্টারগুলোর সামনে শত শত বিদেশগামী ও বিদেশফেরত যাত্রীর ভিড় জমে যায়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী মারুফ এনিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ঝড় নেই, ঝঞ্ঝা নেই। যুদ্ধ নেই, বিগ্রহ নেই। এক শান্ত স্বাভাবিক দিনে কয়েক হাজার মানুষের সঙ্গে আমরাও আটকে আছি হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। সব কিছু আটকে আছে। কারণ সার্ভার ডাউন। কল্পনা করতে পারেন প্রায় এক ঘণ্টা ধরে পুরো এয়ারপোর্ট অচল কারণ সার্ভার ডাউন। চিন্তা করতে পারেন? কোনও বিকল্প আয়োজন নাই, কোন দুশ্চিন্তা নাই কারো। সবাই নির্বিকার হয়ে কাউন্টারে বসে মোবাইল দেখছেন! কারণ সার্ভার ডাউন!
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও ইমিগ্রেশন পুলিশ ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কিছু কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা করে। তবে এতে যাত্রীদের জট আরও বাড়তে থাকে।
ইমিগ্রেশন পুলিশ সূত্র জানায়, এক শিফট থেকে আরেক শিফিটে যেতে সাধারণত ৫ থেকে ১০ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু এসময় প্রায় আধাঘণ্টা সময় লেগে যায়। দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে প্রকৌশলী দল কাজ শুরু করে এবং প্রায় ৩০ মিনিট পর সার্ভার পুনরায় সচল হয়। সার্ভার স্বাভাবিক হওয়ার পর দ্রুততম সময়ে যাত্রীদের ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করার চেষ্টা করা হয়।