হোম > জাতীয়

বর্ষার ছন্দপতনে ফের তাপপ্রবাহ, দেশজুড়ে অসহনীয় ভ্যাপসা গরম

স্টাফ রিপোর্টার

আগের কয়েকদিনের তুলনায় বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে পুনরায় দেশে তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। শনিবার ৮ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। এতে সারাদেশে তীব্র ভ্যাসপা গরমে জনজীবনে চরম অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। আবহাওয়ার এ পরিস্থিতিকে খুবই অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা।

সন্ধ্যায় সহকারী আবহাওয়াবিদ গুলজার হোসেন আমার দেশকে বলেন, শনিবার টাঙ্গাইল, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, নীলফামারী, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া জেলাসমূহের উপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে এবং তা আরো কয়েকদিন অব্যাহত থাকতে পারে। এতে আগামী কয়েকদিন ভ্যাপসা গরম বাড়লেও জুলাই মাসের শুরুতে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কিছুটা বাড়লেও তা খুব বেশি নয়।

বর্ষা মৌসুমে এই তাপপ্রবাহকে অস্বাভাবিক হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, মানবসৃষ্ট বেশ কিছু কারণ পরিবেশের ওপর প্রভাব ফেলছে; এতে বদলে যাচ্ছে প্রকৃতির স্বাভাবিক আচরণ।

এদিকে শনিবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত সারাদেশেই বৃষ্টির প্রবণতা কম লক্ষ্য করা গেছে । শনিবার সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ডও করা হয় এই বিভাগের কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ৫২ মিলিমিটার। এসময় রাজধানীতে কোনো বৃষ্টি হয়নি। এছাড়া আবহাওয়া দপ্তরের ৫১ টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ১০টি এলাকায় বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে; যা পরিমাণে খুবই সামান্য। এর ফলে সারাদেশেই তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে ভ্যাপসা গরম ছড়িয়েছে।

সাধারণত দেশের একাধিক জেলায় তাপমাত্রা ৩৬ কিংবা এর বেশি তাপমাত্রা দেখা দিলে মৃদু তাপপ্রবাহ ঘোষণা করে আবহাওয়া অধিদপ্তর ।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, আগের কয়েকদিনের তুলনায় সারাদেশেই তাপমাত্রা বেড়েছে। শনিবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে। যা আগেরদিন ছিল যশোরে ৩৬ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীতেও সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও বেড়ে হয়েছে ৩৫ দশমিক ৪ডিগ্রি।

ঋতু বৈচিত্র্যের ষড়ঋতুর দেশের দ্বিতীয় ঋতু বর্ষা তথা আষাঢ়ের ১৪তম দিন; জুনের একেবারে শেষার্ধ। সাধারণত এই সময়ে ঝমাঝম বৃষ্টির পানিতে চারদিক থৈ থৈ করার কথা। কিন্তু এই ভরাবর্ষাও আবহাওয়ার স্বাভাবিকতার ছন্দপতন ঘটেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ রয়েছে জলবায়ু বিশেষজ্ঞদেরও।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) এবং সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক ফোরামের সর্বশেষ তথ্যমতে, চলতি বর্ষায় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

বছরের দ্বিতীয় বৃষ্টির মাস জুনে দেশে গড়ে ৪৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হওয়ার কথা থাকলেও ৪৭ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। যা এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃষ্টিপাত। বেশি বৃষ্টির মাস জুলাইয়েও কম বৃষ্টির সম্ভাবনা।

এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক আমার দেশকে বলেন, এবার এল নিনো সক্রিয় থাকায় সারাবিশ্বেই এর প্রভাব থাকবে। এতে বর্ষাকালে থেমে থেমে বৃষ্টি হলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে তাপমাত্রার চেয়েও বেশি ভ্যাপসা গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, এল নিনো হলো প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের পানির অস্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি, যা বিশ্বজুড়ে বায়ুমণ্ডলের স্বাভাবিক চলাচলে পরিবর্তন ঘটায়। বর্তমানে এই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়াটি জুন-আগস্ট মাসে শক্তিশালী হওয়ার ৮০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। এর সরাসরি প্রভাবে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে মৌসুমি বায়ুর স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যা দেশে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এল নিনোর বছরে বাংলাদেশে বার্ষিক বৃষ্টিপাত অনেক কম হতে পারে। বৃষ্টির অভাবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে, ফলে বর্ষাও বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ।

কৃষিখাতেও ধানের উৎপাদন—বিশেষ করে আমন মৌসুমের চারা রোপণ ও বৃদ্ধির জন্য বৃষ্টির পানির কোনো বিকল্প নেই। বৃষ্টির অভাব ও তাপপ্রবাহের কারণে মাটির আর্দ্রতা কমে যাচ্ছে, যা ফসলের জীবনকাল ও ফলনের ওপর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব পড়বে। দক্ষিণ এশীয় জলবায়ু ফোরামের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আসন্ন মাসগুলোতে ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়া এবং জলাধারগুলোতে পানির স্বল্পতার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সেচ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনে পানি সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এছাড়া অতিরিক্ত গরমের কারণে হিটস্ট্রোক, পানিবাহিত রোগ এবং শিশুদের মধ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি বৃদ্ধির সতর্কবার্তা দিয়েছেন চিকিৎসকরা।

পশ্চিম ইউরোপজুড়ে বয়ে যাওয়া তীব্র তাপপ্রবাহ ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ ও বিস্তৃত রূপ নিয়েছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, ইউরোপের ৮৫০টি বড় শহরের প্রায় অর্ধেকই বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে মারাত্মক ‘হিট স্ট্রেস’ বা তাপীয় চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহ অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। তীব্র তাপপ্রবাহে ধুঁকছে ইউরোপ, গরমে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘জরুরি জলবায়ু সতর্কতা’ হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশে বর্ষার এই পরিবর্তিত রূপ কৃষি ও জীবনযাত্রার জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

চীন-মিয়ানমার করিডোর হলে ২৪ ঘণ্টায় চীনে পৌঁছাবে বাংলাদেশি পণ্য

ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি দোকান মালিক সমিতির

তুরাগে ছাত্রলীগের সাত নেতাকর্মীর লাশ ভাসার খবর ভিত্তিহীন: পুলিশ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০১ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনে বিল উত্থাপন

বিএমইউতে ১ হাজার ৩৯ কোটি টাকার বাজেট অনুমোদন

বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে পথ দেখাবে তরুণদের উদ্ভাবনী ভাবনা

ফ্যামিলি কার্ড গ্রামীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করছে

ইসলামী ব্যাংক নিয়ে গয়েশ্বরের সমালোচনার জবাব দিলেন পার্থ-শাহজাহান

ইসলামী ব্যাংকিং সম্প্রসারণ ও জাকাত ব্যবস্থাপনা জোরদার করা উচিত