সৌদি আরবের রিয়াদে হুথিদের হামলায় বাংলাদেশি আলেম ও ওমরাহযাত্রী মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের নিহত হওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্স। একই সঙ্গে তাঁর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে যথাযথ জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
এর আগে রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর বাংলাদেশি আলেম ও ওমরাহযাত্রী মুফতি নাসরুল্লাহ বদর নিখোঁজ রয়েছেন বলে গত ১০ অক্টোবর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে তাঁর সন্ধান না পাওয়া নিয়ে পরিবার, সহকর্মী ও স্বজনদের গভীর উদ্বেগের কথা উঠে আসে। পরবর্তী সময়ে তার ছোট ভাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত আইডি থেকে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন।
রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন মাহদি ও সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান এই আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেন, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যাওয়া একজন বাংলাদেশি আলেমের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানোর পাশাপাশি হামলায় আহত অন্য বাংলাদেশিদের উন্নত সুচিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
মুফতি নাসরুল্লাহ বদরের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে এনে মর্যাদাপূর্ণ জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করতে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের দাবি জানান তাঁরা।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হামলায় আহত বাংলাদেশিরা যথাযথ চিকিৎসা ও মানবিক সহায়তা পাচ্ছেন কি না, তা গভীরভাবে তদারকি করতে হবে। আহত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, এ মর্মান্তিক ঘটনা বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যনীতি পুনর্মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি এবং হজ ও ওমরাহ পালন করতে যাওয়া নাগরিকদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি ও কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশিদের দ্রুত উদ্ধার, সুচিকিৎসা, কনস্যুলার সহায়তা ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও স্থায়ী রূপরেখা থাকা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তারা।