আজ বৃহস্পতিবার বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন। দেশের মানুষ দেড় যুগ পর স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ভোট দিয়ে জনগণ আগামী পাঁচ বছরের জন্য দেশের কান্ডারি বেছে নেবে। দেশে প্রতিষ্ঠিত হবে একটি নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার। সংসদ নির্বাচন ছাড়াও আজ বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় সংস্কার সম্পর্কিত গণভোট অনুষ্ঠিত হবে ।
জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিশ্বের চোখ এখন বাংলাদেশের দিকে। নির্বাচনের সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে আয়োজক সংস্থা নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপারসহ সব নির্বাচনি সামগ্রী। বিএনপি-জামায়াতসহ অংশগ্রহণকারী রাজনৈতিক দলগুলোও নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর মধ্যে গত কয়েকদিনে যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ দেখা গেছে তার ধারাবাহিকতায় আজকের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করা যাচ্ছে।
অবশ্য উৎসবমুখর শান্তিপূর্ণ ভোটের প্রত্যাশার বিপরীতে জনমনে শঙ্কাও রয়েছে। নির্বাচন ঠেকাতে ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সন্ত্রাসীরা কিছু এলাকায় নাশকতা চালাতে পারে বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে।
গতকাল দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন ভোটারদের নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই এই নির্বাচনকে সার্থক করে তুলবে। নির্বাচন উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শুভেচ্ছাবাণী দিয়েছেন। এর আগে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা উৎসবমুখর নির্বাচন বাস্তবে রূপায়িত করার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য গণভোটের মাধ্যমেই প্রমাণ করব—বাংলাদেশের জনগণ নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই নির্ধারণ করতে জানে। ঐক্যের শক্তি নিয়ে তিনি ভোটকেন্দ্রে যেতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে ভোটগ্রহণের আগের দিন গতকাল দেশের কয়েকটি স্থান থেকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের টাকাসহ আটক করা হয়েছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ৭৪ লাখ টাকাসহ ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির বেলাল উদ্দিনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অপরদিকে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ১৫ লাখ টাকাসহ বিএনপি প্রার্থী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির ব্যক্তিগত সহকারীকে আটক করা হয়। পরে টাকার উৎস যাচাইয়ের পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
বিমানবন্দরে টাকাসহ জামায়াত নেতা আটকের বিষয়টিকে নাটক আখ্যায়িত করে দলটির প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, বিমানবন্দরের মতো জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী একটি সাধারণ নাটক মঞ্চস্থ করেছে। বেলাল উদ্দিনের কাছে ব্যবসায়িক কাজের জন্য টাকা ছিল, যা সম্পূর্ণ বৈধ। অপরদিকে কোনো উৎস থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ নিয়ে কী উদ্দেশ্যে, কাদের দেওয়ার জন্য নির্বাচনের আগের দিন ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে যাচ্ছেন প্রশ্ন তুলে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, বিএনপির বিজয় অনিবার্য জেনে একটি গোষ্ঠী প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
দেশের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো একই দিনে সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’-এ সংবিধান সংস্কার সম্পর্কিত কিছু প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের মতামত নিতে হচ্ছে এই গণভোট। আজ সকাল সাড়ে ৭টা থেকে টানা সাড়ে ৪টা পর্যন্ত নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা পৃথক দুটি ব্যালট পেপারে ভোট দেবেন। সাদা ব্যালটে সংসদ সদস্য এবং গোলাপি ব্যালটে হচ্ছে গণভোট। দুটি ব্যালটই একটি স্বচ্ছ ব্যালট বক্সে ফেলতে হবে। একই দিনে দুটি ভোট অনুষ্ঠানের কারণে ভোট গ্রহণের সময় একঘণ্টা বাড়ানো হয়েছে।
গত ১১ ডিসেম্বর সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করা হয়। একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। এজন্য দেশের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হচ্ছে।
নির্বাচনে নেই আ.লীগসহ ১০ দল
নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত ৬০টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৫০টি দল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় দলটির নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল না। এছাড়া আওয়ামী লীগ জোটভুক্ত কয়েকটি দল এই নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে না। নির্বাচনে অংশ না নেওয়া অন্য দলগুলো হচ্ছে— বাংলাদেশের সাম্যবাদী দল (এমএল), কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ), বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, তরীকত ফেডারেশন, তৃণমূল বিএনপি, গণতন্ত্রী পার্টি এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন (বিএনএম)।
প্রার্থী ২০২৮ জন
ইসির তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে ২৯৯ আসনে প্রার্থী আছেন ২ হাজার ২৮ জন। এর মধ্যে ৫০টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। নারী প্রার্থী আছেন ৮১ জন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৭৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন আর হিজড়া ভোটার আছেন ১ হাজার ২৩২ জন। অবশ্য এর মধ্যে শেরপুর-৩ আসনে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে।
৫০ শতাংশ কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ
নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র ৪২ হাজার ৭৭৯টি। এর মধ্যে সাধারণ ভোটকেন্দ্র ২১ হাজার ২৭৩টি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ২১ হাজার ৫০৬টি। এ হিসাবে ৫০ শতাংশের বেশি কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য মতে, নির্বাচনে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্র অতি ঝুঁকিপূর্ণ। নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে প্রতিটি কেন্দ্রে দুজন পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৬ থেকে ১৭ জন সদস্য নিয়োগ করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে পুলিশ সদস্য এক থেকে দুজন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনি কর্মকর্তা প্রায় ৮ লাখ
নির্বাচনে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন সাত লাখ ৮৫ হাজার ২২৫ জন। এর মধ্যে প্রিসাইডিং অফিসার ৪২ হাজার ৭৭৯ জন, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার দুই লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন এবং পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন। পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য প্রতি আসনে একজন করে ২৯৯ জন প্রিসাইডিং অফিসার, ৩৯৪ জন সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও ৫ হাজার ২০৩ জন পোলিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ৫৯৮ জন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রয়েছেন। নির্বাচনে ৬৫৭ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও দুই হাজার ৯৮ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ৯ লাখের বেশি
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে এক লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন পুলিশ, নয় হাজার ৩৪৯ জন র্যাব, এক লাখ ৩ হাজার সেনাবাহিনী, ৫ হাজার নৌবাহিনী ও তিন হাজার বিমান বাহিনীর সদস্য নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বিজিবি ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন ও কোস্টগার্ড তিন হাজার ৫৮৫ জন দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন আনসার মোতায়েন করা হয়েছে। এবারই প্রথমবারের মতো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য হিসেবে নির্বাচনে বিএনসিসির সদস্য যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনে এক হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক
৪০টি দেশ ও ৮টি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করছেন। এসব পর্যবেক্ষক বর্তমানে বাংলাদেশে অবস্থান করছেন। এর মধ্যে ৫৭ জন নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে এসেছেন বলে কমিশন থেকে জানানো হয়েছে। আর স্বেচ্ছায় পর্যবেক্ষণে এসেছেন ৩৩৫ জন। নির্বাচনে ইসিতে নিবন্ধিত ৮০টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন পর্যবেক্ষক দেশের ২৯৯টি আসনের বিভিন্ন কেন্দ্রে নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করবেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৪৩৮ জনকে নির্বাচন কমিশন ও ৩৬ হাজার ৫৫৭ জনকে রিটার্নিং কর্মকর্তারা পর্যবেক্ষণ কার্ড প্রদান করেছেন। ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক নির্বাচনে সংবাদ সংগ্রহের জন্য ইসি থেকে অনুমোদন নিয়েছে বলে জানা গেছে।
প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটে ভোট
এবারের নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে পোস্টাল ব্যালটে ভোটদানের সুযোগ। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইনে আগেই পোস্টাল ব্যালটের বিধান থাকলেও এর প্রচলন ছিল না। অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যাপক আগ্রহ ও নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে এবার পোস্টাল ব্যালটে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। আরপিও সংশোধন করে পোস্টাল ব্যালটে প্রবাসীরা প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া সরকারি কর্মচারী, নির্বাচনে ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলখানার কয়েদিরা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১০ লাখ ১৪ হাজার ৯০৬ জনের পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের ৪ লাখ ৬৮ হাজার ১০৭ জনের এবং বাংলাদেশের ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জনের। আজ ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে যেসব পোস্টাল ব্যালট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাবে তা গণনার আওতায় আসবে। এরপর আসা ব্যালটগুলো বাতিল বলে গণ্য হবে।
জরিমানা আদায় ৩৬ লাখ টাকা
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর সময় নির্বাচনি আইন ভঙ্গের জন্য ৩৬ লাখ ৩ হাজার ৯৯০ টাকা জরিমানা আদায় হয়েছে। এর মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ৪৬১টি আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনায় ২৫৯টি মামলা করেছেন। এ সময় জরিমানা আদায় হয়েছে ৩২ লাখ ১৫ হাজার ৪৯০ টাকা। অপরদিকে ইলেকক্টোরাল ইনকোয়ারী কমিটি তিন লাখ ৮৮ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।
ভোট গণনা যেভাবে
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই কেন্দ্রে গণনার প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রথমে সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট আলাদা করা হবে। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ব্যালট একই সময়ে গণনা করা হবে। দুটি ভোটের ফলাফলও একসঙ্গে ঘোষণা করা হবে। স্ব স্ব ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ভোটের ফলাফল ঘোষণা করবেন। পরবর্তীতে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা এবং রিটার্নিং কর্মকর্তারা সব কেন্দ্রের ফলাফল সমন্বয় করে বেসরকারিভাবে চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করবেন।
প্রধান উপদেষ্টার বাণী
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এতে তিনি ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি ও পেশার ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যেন কোনো ধরনের ভয়ভীতি, চাপ বা প্রভাব ছাড়াই স্বাধীনভাবে তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন, সশস্ত্র বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ কর্তব্য পালন করতে হবে। তিনি রাজনৈতিক দলসমূহ, প্রার্থী ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সংযম, সহনশীলতা ও গণতান্ত্রিক আচরণ বজায় রাখার আহ্বানও জানান।
ড. ইউনূস বলেন, যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, গণভোটের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনব্যবস্থা সম্পর্কে তাদের সুস্পষ্ট মতামত ব্যক্ত করবেন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য যোগ্য, দায়বদ্ধ ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রতি শ্রদ্ধাশীল জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। এভাবে জনগণ সরাসরি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণে অংশীদার হবেন।
মানুষ তিন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেনি
আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ তিনটি নির্বাচনই ছিল জালিয়াতিতে ভরা। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪ সালের নির্বাচন ‘বিনাভোট’, ২০১৮ সালের নির্বাচন ‘রাতের ভোট’ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচন ‘আমি–ডামির নির্বাচন’ হিসেবে পরিচিতি পায়। ওইদিন তিনটি নির্বাচনে ভোটারদের বড় অংশই ভোট দিতে পারেননি। একরতফা ওই তিনটি নির্বাচনই ছিল সহিংস ও রক্তক্ষয়ী। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দেড় বছরের মাথায় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।