মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করলে পাওয়া যাবে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ। সাথে থাকবে বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ। দুই লাখ ডলার দিয়ে নিয়োগ করলে মাসে ৫ হাজার ডলার লভ্যাংশ। এমন নানা প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করে করে আসছিল একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র।
তবে শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত পুলিশের জালে আটকা পড়েছে প্রতারক চক্রের অন্যতম হোতা সওকত হোসাইন সুমন ওরফে আশরাফুল চৌধুরী ইমরান (৩৯)। পেশাদার এই প্রতারককে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির বিমানবন্দর থানা পুলিশ।
সোমবার রাতে রাজধানীর বেইলি রোড এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। খপ্পরে পড়ে ডা. বদরুদ্দোজা নামে এক ব্যক্তি প্রতারকচক্রকে দুই ধাপে দিয়েছেন ২ লাখ ৭ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা।
বিমানবন্দর থানা সূত্র জানায়, জনৈক ডা. এএসএম বদরুদ্দোজার সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্কের সূত্র ধরে গ্রেপ্তারকৃত প্রতারক আশরাফুল চৌধুরী ইমরান ও তার সহযোগীদের পরিচয় হয়। ইমরান জানায় সে একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করে এবং বদরুদ্দোজাকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সদস্য পদ নিয়ে বিনিয়োগ করতে সহায়তা করতে পারবে। এ বিষয়ে ইমরান ও তার সহযোগীদের সাথে বদরুদ্দোজার কয়েক দফা মিটিং হয়।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে তাদের সাথে বদরুদ্দোজার আরো একটি মিটিং হয় এবং তারা বদরুদ্দোজাকে মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সদস্য পদ নেওয়ার জন্য ৭ হাজার ডলার বিনিয়োগ করতে হবে বলে জানায়।
তাদের কথা বিশ্বাস করে বদরুদ্দোজা গত ১৮ নভেম্বর উত্তরার হোটেল রিমান্ডে ইমরান ও তার সহযোগীদের ৭ হাজার ডলার দেয়।
দুইদিন পর গত ২০ নভেম্বর ইমরান ও তার সহযোগীরা বদরুদ্দোজাকে জানান তিনি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সদস্য পদ পেয়েছেন এবং এখন তাকে দুই লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। বিনিয়োগের ফলে তিনি লভ্যাংশ বাবদ সপ্তাহে পাঁচ হাজার ডলার পাবেন। বিনিয়োগের পরিমাণ বেশি দেখে তার আগের দেয়া ৭ হাজার ডলার ফেরত চেয়ে অনুরোধ করেন। কিন্তু প্রতারকরা তাকে নানা কৌশলে প্রলোভন দেখিয়ে তাদের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করায়।
এরপর তিনি গত ১৮ ডিসেম্বর উত্তরার হোটেল রিমান্ডে প্রতারক চক্রকে তাদের কথামত দুই লাখ ডলার দেন।
প্রতারকচক্র জানায় মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির সদস্য পদ ও বিনিয়োগের যাবতীয় কাগজপত্র ও প্রদানকৃত ইউএস ডলার গ্রহণের রসিদ সিঙ্গাপুর থেকে তাদের কোম্পানির কর্তৃপক্ষ স্বাক্ষর করে ওইদিন (১৮ ডিসেম্বর) রাতেই পাঠাবে।
এরপর তারা কাগজপত্রগুলো পাঠিয়ে দিবে। রাতে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে তাদেরকে (প্রতারক চক্র) কয়েকবার ফোন দিয়ে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে কিন্তু তাদের মোবাইল নাম্বার বন্ধ থাকায় যোগাযোগ করতে ব্যর্থ হয়। তিনি তাদের খপ্পরে পড়ে দুই ধাপে ২ লাখ ৭ হাজার ইউএস ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা দিয়েছেন।
এ ঘটনায় ডা. এএসএম বদরুদ্দোজার অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত ২০ ডিসেম্বর বিমানবন্দর থানায় একটি প্রতারণার মামলা রুজু করা হয়।
থানা সূত্রে আরো জানা যায়, মামলা দায়ের করার পর বিমানবন্দর থানা পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রতারক চক্রটিকে গ্রেফতারে তৎপরতা চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের একজন সদস্য ইমরানের অবস্থান শনাক্ত করে।
এরপর গত সোমবার রাত ১১টায় বেইলি রোডের নবাবী ভোজ রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে প্রতারক ইমরানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করে আসছে মর্মে প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় একটি প্রতারণার মামলা রয়েছে। প্রতারণার সাথে জড়িত অন্যান্যদের গ্রেপ্তারের অভিযান চলছে বলে জানায় পুলিশ।