বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোনো জলাবদ্ধতা হয়নি বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পুরনো ছবি ব্যবহার করে অপপ্রচার চালানো হয়েছে দাবি করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতার খবর সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বানোয়াট এবং কাল্পনিক। ২০২৪ সালের ছবি প্রচার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে। জলাবদ্ধতা নয়, ৫টি স্থানে জলজট হয়েছিল। তবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির জন্য চট্টগ্রাম নগরবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করায় তারা খুবই খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এর মাধ্যমে অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী একথা বলেন।
গত ২৮ এপ্রিল অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন স্থান পানিতে ডুবে যাওয়ার গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কোথাও কোথায় কোমর পরিমাণ পানি জমার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ হতে দেখা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বুধবার জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় এমপি (চট্টগ্রাম-১০) সাঈদ আল নোমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। পরে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।
বৃহস্পতিবার বিবৃতিতে শাহে আলম বলেন, চট্টগ্রাম মহানগর পানির ওপর ভাসছে। এরকম একটি বিষয় আসছিল। এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তার প্রশ্নোত্তরের সময় চট্টগ্রামবাসীর কাছে দু:খ প্রকাশ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় চট্টগ্রামে গতকাল বুধবার সরেজমিনে পরিদর্শনে যাই। সেখানে আমি সিটি করপোরেশন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সবাইকে নিয়ে গতকাল ও আজকে দুপুর পর্যন্ত চট্টগ্রাম ঘুরেছি।
তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বানোয়াট এবং কাল্পনিক। ২০২৪ সালের ছবি প্রচার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে। আমাদের একজন সংসদ সদস্য বা খবরের ওপর ভিত্তি করে তিনি দু:খ প্রকাশ করে ফেলেছেন। তবে আমি মাঝে মাঝে রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি। সাধারণ মানুষ এইটুকু বলেছেন যে প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামনগরবাসীর সাথে দু:খ প্রকাশ করেছেন এজন্য তারা আনন্দিত ও খুশি হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী এর মাধ্যমে অত্যন্ত বড় মনের পরিচয় দিয়েছেন। নগরবাসী এটাকে খুবই ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। তারা বলেছেন, এখন থেকে এক বছর বা দুই বছর আগে যে পরিমাণ জলাবদ্ধতা হতো- এখন তা নেই। চট্টগ্রাম নগরীকে মোট ৫৭টি খাল রয়েছে। এর মধ্যে ৩৬টি খাল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ সেনাবাহিনী বাস্তবায়ন করছে। এর ৩০টি খালের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ৬টির কাজ চলমান রয়েছে। এই কাজ করতে গিয়ে কিছু জায়গায় বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। হঠাৎ অতিবৃষ্টিতে ওই বাঁধগুলির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছিল। ওইদিন চট্টগ্রামে ২২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছিল ফলে প্রবর্তনা মোড়সহ ৫টি জায়গায় জলজট তৈরি হয়েছিল, জলাবদ্ধতা নয়। তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই পানি নিষ্কাশন হয়েছে। আজকে চট্টগ্রামে কোনো পানি নেই।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানে মেয়রের নেতৃত্বে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। আগামীতে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে এই কমিটি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেবে। যে ছয়টি খালের কাজের জন্য ব্যারিকেড দেওয়া হযেছে সেইগুলোর কাজ বন্ধ করে আগামী ৫ দিনের মধ্যে খালগুলোতে পানিচলাচল সচল রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বড় ধরনের কোনো বৃষ্টিপাত বা জলোচ্ছ্বাস না হলে আগামী বর্ষা মৌসুম থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীতে কোনো জলাবদ্ধতার সম্ভাবনা থাকবে না।
এএস