হোম > জাতীয়

নিত্যপণ্যে করছাড়ের সুফল নেই বাজারে, দাম কমার বদলে উল্টো অস্থিরতা

স্টাফ রিপোর্টার

চলতি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে জনস্বার্থ বিবেচনায় ৬৩টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে করছাড়ের ঘোষণা দিয়েছিল সরকার। সরকারের লক্ষ্য ছিল, এর মাধ্যমে আমদানি ও বাজারজাতকরণ ব্যয় কমিয়ে খুচরা বাজারে পণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা। কিন্তু বাজেট ঘোষণার দীর্ঘ সময় পার হলেও সেই সুফল এখনো ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছায়নি। উল্টো চাল, ভোজ্য তেলসহ বেশ কিছু নিত্যপণ্যের দাম না কমে বরং কিছু ক্ষেত্রে বাড়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর দাবি, সরকারের রাজস্ব ছাড়ের সুবিধা ব্যবসায়ীরাই ভোগ করছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষ এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।

গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি এসএম নাজের হোসাইন অভিযোগ করেন, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল কর কমানোর মাধ্যমে পণ্যের দাম কমিয়ে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। কিন্তু বাজারে এর প্রতিফলন নেই। তিনি বলেন, বাজেট ঘোষণার পর আমরা একে স্বাগত জানিয়েছিলাম, কিন্তু বাস্তবে সাধারণ মানুষ সুফল পাচ্ছে না। একদিকে বাজার তদারকি সংস্থার অভাব, অন্যদিকে অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে।

ক্যাবের তথ্যমতে, ধান, চাল, গম, আটা, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্য তেল ও বীজসহ ৬৩টি নিত্যপণ্যের উৎসে কর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এছাড়াও সব ধরনের ভোজ্য তেলের উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়। অথচ খুচরা বাজারে এর কোনো ইতিবাচক প্রভাব নেই।

বাজারে পণ্যের দাম না কমার কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, বর্তমানে বাজারে থাকা পণ্যগুলো আগের বেশি শুল্কে আমদানি করা। নতুন চালান আসার পর দাম কমতে পারে। তবে ক্যাবের পর্যবেক্ষণে ব্যবসায়ীদের এই যুক্তি ধোপে টেকে না। নাজের হোসাইন বলেন, ‘যেসব পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ানো হয়েছে, সেগুলো কম দামে আমদানি হওয়া সত্ত্বেও ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। অর্থাৎ যখনই শুল্ক বাড়ে, ব্যবসায়ীরা দ্রুত দাম বাড়ান, কিন্তু করছাড়ের সুবিধা দেওয়ার পরও দাম কমানোর ক্ষেত্রে তাদের মধ্যে অনীহা দেখা যায়। এটি ব্যবসায়ীদের দ্বিমুখী নীতি।’

বাজেটে সব ধরনের আমদানি করা মসলা ও খেজুরের ওপর থেকে ৫ শতাংশ রেগুলেটরি শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছিল। ক্যাবের অভিযোগ, এর সুফলও বাজারে দৃশ্যমান নয়। বরং দারুচিনি, লবঙ্গ, জয়ত্রী, পোস্তদানা, কাজুবাদাম ও কাঠবাদামের মতো মসলার দাম উল্টো বেড়েছে। একই অবস্থা খেজুরের ক্ষেত্রেও।

বাজার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার রাজস্ব ছাড় দিয়ে যে আর্থিক ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা যদি ভোক্তা পর্যায়ে না পৌঁছায় তবে এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যই ব্যর্থ। ক্যাবের মতে, বাজার তদারকিতে কার্যকর নজরদারি না থাকায় এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসাধু ব্যবসায়ীদের প্রতি নমনীয় আচরণের কারণে ভোক্তা সাধারণ অসহায় হয়ে পড়ছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালনের পরিবর্তে সরকার ব্যবসায়ী-বান্ধব অবস্থানে আছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির।

এর আগে বাজেট ঘোষণার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যে, কর কমানোর ফলে নিত্যপণ্যের দাম কমে আসবে। কিন্তু সেই আশ্বাস এখনো বাস্তবায়নের মুখ না দেখায় সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে কোনো কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করে কি না।

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব প্রত্যাহার

দেশের স্বার্থে সবাইকে আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর হলেন আনিছুর রহমান

বিতর্কের মুখে প্রাথমিকের পাঠাগারে তিন বই রাখার নির্দেশনা বাতিল

পল্লবীর কিশোর গ্যাংয়ের পাঁচ সদস্য গ্রেপ্তার

কাশ্মীর নিয়ে ঢাকায় ভারত-পাকিস্তান মুখোমুখি

দেশজুড়ে আরও দুই দিন ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস, সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কতা

শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী

গুলশান লেকের পরিবেশ রক্ষা ও সমন্বিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা গড়তে বড় সংস্কার করা হচ্ছে: ববি হাজ্জাজ