জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের ৩২ শতাংশ ভূখণ্ড ও প্রায় চার কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা চরম হুমকির মুখে পড়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় শুধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনের দিকে তাকিয়ে না থেকে জাতীয় বাজেটে উপকূলের জন্য বিশেষ বরাদ্দ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গবেষক ও বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, লবণাক্ততা, নদীভাঙন ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট নিরসনে এখনই সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
রোববার শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ‘কোস্টাল ক্লাইমেট ডায়ালগ’-এ এসব কথা উঠে আসে। উপকূলীয় জনগণের নীতিগত প্রস্তাবনা বা ‘উপকূল ঘোষণা’ আগামী বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-৩১) তুলে ধরার দাবিতে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী জানান, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ প্রতিনিয়ত জীবন ও ভিটেমাটি হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই পরিবেশগত এই সংকট মোকাবেলায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির স্থায়ী ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং সুন্দরবন সংরক্ষণের কোনো বিকল্প নেই।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ সংলাপে উদ্বোধনী বক্তব্যে বলেন, বিশাল এই জনপদকে পিছিয়ে রেখে জাতীয় অগ্রগতি কোনোভাবেই সম্ভব নয়। সরকার উপকূলের সংকট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের সভাপতি আমিনুর রসুলের সভাপতিত্বে সংলাপে সংসদ সদস্য আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন জানান, উপকূলের সমস্যা সমাধানে বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছেন। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট কাজ শুরু হয়েছে।
তবে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে উপকূলীয় এলাকার ন্যায্যতা নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ বলেন, সুন্দরবন রক্ষার কথা বলে বনের মধ্যে এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ স্ববিরোধী। এছাড়া বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক সংসদের ভেতর ও বাইরে সোচ্চার থাকার জন্য একটি ‘উপকূলবিষয়ক সংসদীয় ককাস’ গঠনের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পেশ করেন।
সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (সিপিআরডি) নির্বাহী প্রধান মো. শামসুদ্দোহা বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ন্যায্য হিস্যা আদায়ের পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেও জনগুরুত্বপূর্ণ এই ইস্যুতে সব বিভেদ ভুলে অভিন্ন অবস্থানে আসতে হবে। বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মোস্তফা কামাল মজুমদার উল্লেখ করেন, দেশের প্রাকৃতিক সুরক্ষাবলয় সুন্দরবন রক্ষায় উজানের পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্রের সঞ্চালনায় সংলাপে আরও বক্তব্য দেন চিলড্রেন ওয়াচ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ ইসরাত আজমেরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবীর সুমন, ক্লাইমেট চেঞ্জ জার্নালিস্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, মিহির বিশ্বাস, কামাল পারভেজ, খোন্দকার রেবেকা সান-ইয়াত, আসিফ মইনুর চৌধুরী, সাকিলা পারভীন, কেফায়েত শাকিল, ফয়সাল আহমেদ, মেহনাজ মালা, মো. জহুরুল ইসলাম, জুবায়ের ইসলাম, তানজীম জামান, খাদিজা খাতুন, সাকিল আহমেদ প্রমুখ।