কক্সবাজারে রেকর্ড ২৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি
মৌসুমি স্থল নিম্নচাপের প্রভাবে দেশের ওপর সক্রিয় হয়েছে মৌসুমি বায়ু। এর ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে সমুদ্রবন্দরসমূহকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মধ্য প্রদেশ, স্থল নিম্নচাপের কেন্দ্রস্থল, পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। সোমবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত এই ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। ভারী বর্ষণের কারণে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
মৌসুমি নিম্নচাপ ও বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্যের কারণে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নৌবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে।
উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
টানা ভারী বর্ষণের ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি থাকায় চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
আবহাওয়ার বর্ধিত ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এই সময়ে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে সোমবার সন্ধ্যা ৬টায় সংস্থাটির দেওয়া আগের ২৪ ঘণ্টার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার দেশের আট বিভাগেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও চট্টগ্রামসহ উপকূলীয় এলাকায় বেশি হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজারে ২৭৭, চট্টগ্রামে ২০৬, কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ২৫৪, বান্দরবান ১৬৪, চট্টগ্রামের আমবাগানে ১১৫ ও টেকনাফে ৯৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এদিন রাজধানীতে ১৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে আগের কয়েক দিনের তুলনায় তাপমাত্রা কমে সোমবার সারা দেশের মধ্যে রংপুর ও সৈয়দপুরে সর্বোচ্চ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। রাজধানীর তাপমাত্রা ছিল ৩১.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
বৃষ্টির প্রবণতায় তাপমাত্রা কমলেও দেশজুড়ে ভ্যাপসা গরম অব্যাহত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে আবহাওয়াবিদ ড. আবুল কালাম মল্লিক বলেন, “আগামী কয়েক দিন বৃষ্টিপাত বাড়ার ফলে দিনের তাপমাত্রা আরও কমে আসবে। তবে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি সাময়িকভাবে বজায় থাকতে পারে।”