হোম > জাতীয়

চিকিৎসা আর সংসারের বোঝা সামলাতে চান কর্মসংস্থান

প্রধানমন্ত্রীর কাছে জুলাইযোদ্ধার আকুতি

মাহমুদুল হাসান আশিক

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজপথে গুলিবিদ্ধ হয়ে শরীরে এখনো স্প্লিন্টার বহন করছেন শাবিপ্রবির শিক্ষার্থী নবাব শরীফ সজীব। আন্দোলনের সেই সাহসী তরুণ আজ শারীরিক যন্ত্রণা আর পরিবারের দায় কাঁধে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে ক্লান্ত। কর্মসংস্থানের আশায় তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।

চব্বিশের জুলাইয়ে উত্তাল দিনগুলোতে দেশের টানে রাজপথে নেমেছিলেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) বাংলা বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সজীব। আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে দুই দফা হামলার শিকার হন তিনি। আওয়ামী সরকার পতনের দিন ৫ আগস্ট শাবিপ্রবি উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গুলিবিদ্ধ হলে তার শরীরে বিদ্ধ হয় ১১টি স্প্লিন্টার। অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সাতটি অপসারণ করা সম্ভব হলেও এখনো হাতে ও কপালে চারটি স্প্লিন্টার রয়ে গেছে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও পরিবারের দায়ভার নিয়ে বর্তমানে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি এ সাহসী তরুণ। জীবনসংগ্রামে টিকে থাকতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কর্মসংস্থানের আবেদন জানিয়ে চিঠি লিখেছেন তিনি।

সজীবের গ্রামের বাড়ি রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের বড়ইছড়িতে হলেও বর্তমানে তিনি নাটোর এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছেন। আন্দোলনে আহত হওয়ার পর তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা প্রায় নিঃশেষ হয়েছে। তিনি আমার দেশকে জানান, হাতের যন্ত্রণার কারণে এখন আর আগের মতো কাজ করতে পারেন না। এমনকি হাত দিয়ে ভাত খেতেও কষ্ট হয়। ভারী কোনো কাজ করা বা দীর্ঘ সময় লিখে যাওয়া এখন তার পক্ষে অসম্ভব। এ শারীরিক অসুস্থতার কারণেই তিনি তার মাস্টার্স সম্পন্ন করতে পারেননি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আগে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে ফ্রন্ট ডেস্ক অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন সজীব। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘ সময় হাত দিয়ে লিখতে না পারা এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে সেই চাকরি ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে তার কাঁধে ১৪ মাস বয়সী সন্তান ও অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীর ভরণপোষণের ভার। যদিও জুলাইযোদ্ধাদের সরকারি গেজেটে তিনি প্রথমে ‘সি’ এবং পরে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে তালিকাভুক্ত হয়েছেন। কিছু নিয়মিত ভাতা ও এককালীন অর্থও পেয়েছেন। তবে বর্তমান অগ্নিমূল্যের বাজারে পরিবারের খরচ মেটাতে তাকে চরম হিমশিম খেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমান অবস্থা নিয়ে সজীব বলেন, আর দশটি মানুষের মতো স্বাভাবিক দেখালেও আমার যন্ত্রণাগুলো আমাকে নীরবে গিলে খাচ্ছে। সরকারি বা অন্যান্য চাকরির জন্য পড়াশোনা করাও এখন আমার পক্ষে অসম্ভব। সামনের দিনগুলো কীভাবে কাটাব, জানি না। আমার চিকিৎসার জন্য নিয়মিত থেরাপি প্রয়োজন, যা ব্যয়বহুল এবং জেলা বা বিভাগীয় শহরে থাকা ছাড়া সম্ভব নয়।

নিজের ও সন্তানের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে সজীব এখন একটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের অপেক্ষায় আছেন। তিনি ইতোমধ্যেই নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি চাকরির সুযোগ পাওয়ার জন্য আবেদন জানিয়েছেন। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে সজীব সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে চিঠি লিখেছেন।

দেশমুক্তির জন্য জীবনবাজি রাখা এ মেধাবী শিক্ষার্থীর এখন একমাত্র চাওয়া একটি টেকসই কর্মসংস্থান, যা তাকে চিকিৎসা ও সংসারের বোঝা থেকে মুক্তি দিয়ে একটি স্বাভাবিক জীবনের নিশ্চয়তা দেবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে নিউজিল্যান্ড হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

প্রধানমন্ত্রীর সভপতিত্বে এনইসির সভা শুরু

হজে গিয়ে ১৭ বাংলাদেশির মৃত্যু

এবার ঈদযাত্রায় সবচেয়ে ভিড় হবে ২৫ ও ২৬ মে

বিদ্যুৎ খাতের অর্থনৈতিক চাপ কমাতে নীতিগত সংস্কারের আহ্বান

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কাতারের শ্রমমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

শহীদ মিনারে জুলাইযোদ্ধা কারিনার জানাজা অনুষ্ঠিত

প্রতি সেক্টরে উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছে সরকার: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

অবৈধ গবাদিপশু প্রবেশ রোধে বিজিবিকে কঠোর নজরদারির নির্দেশ

অপরাধীর কঠোর শাস্তি নিশ্চিতে গুম প্রতিরোধ আইন প্রণীত হবে