হোম > জাতীয়

গরীবের ‘কাটা ঘায়ে নুনের ছিটা’ শেষ ভরসা ডিম ও কাঁচা পেঁপের দামও চড়া

সরদার আনিছ

নিত্যপণ্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বাজারে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত মানুষের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে অনেক আগেই। মাংস বা মাছের মতো দামি পুষ্টিকর খাবার তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষ যখন একটু কম খরচে খেয়ে-পড়ে বাঁচার চেষ্টা করছেন, তখন সেখানেও বড় ধাক্কা লেগেছে। গরীব ও সীমিত আয়ের মানুষের ‘বিকল্প পুষ্টি’ ও শেষ ভরসা হিসেবে পরিচিত ডিম এবং কাঁচা পেঁপের দাম এখন আকাশছোঁয়া। বাজারে গিয়ে এই দুটি অতি সাধারণ পণ্য কিনতেও হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।

তিন সপ্তাহ ধরে বাজারে ঊর্ধ্বমুখী ডিমের দাম। অন্যান্য নিত্যপণ্যের দামের চাপের মধ্যে নিম্ন, নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো যখন ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, ঠিক তখন ডিমের দাম যেন ‘কাটা গায়ে নুনের ছিটা’ দিয়েছে। এক মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। ডিমের অস্বাভাবিক এই দাম বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বিপাকে সীমিত আয়ের নিম্ন আয়ের গরীব মানুষ।

রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকায়| আর পাড়া-মহল্লার দোকানে এ দাম ১৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। অথচ মাত্র এক মাস আগেও এক ডজন ডিমের দাম ছিল ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ মাসের ব্যবধানে ডজনপ্রতি ডিমের দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টাকা।

পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চাহিদা বেড়ে ডিমের দাম কিছুটা বাড়ে। তবে এবার অল্প সময়ের মধ্যে দাম বৃদ্ধির হার তুলনামূলক অনেক বেশি এবং অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি এর আগে খুব কমই দেখা গেছে।

এর আগে ২০২২ সালে্ও ডিমের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। ওই সময় দাম বাড়ার কারণ অনুসন্ধানে মাঠে নামে সরকারি সংস্থা। জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর (ডিএনসিআরপি) ছাড়াও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সংস্থা বাজার তদারকিতে অংশ নেয়। ওই সময় দেখা যায়, ডিম উৎপাদনকারী বড় ফার্মগুলো কমিশন এজেন্টের মাধ্যমে দাম কারসাজি ও নিলাম প্রক্রিয়ায় নিজেদের নিয়োগ করা এজেন্ট ব্যবহার করে ডিমের দাম বাড়িয়েছিল। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে ডিএনসিআরপির প্রতিবেদনেও।

বিভিন্ন সংস্থার তথ্য- উপাত্ত বলছে, দেশে ক্রমাগত ডিমের উৎপাদন বাড়ছে। সবশেষ গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই হাজার ৪৪০ কোটি পিসেরও বেশি ডিম উৎপাদন হয় দেশে। দশ বছর আগে (২০১৫-১৬ অর্থবছরে) যার পরিমাণ ছিল এক হাজার ১৯১ কোটি পিস। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৪ কোটি পিস ডিম উৎপাদন হচ্ছে।

যদিও উৎপাদনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডিমের চাহিদা বাড়ছে। এখন বহু ধরনের খাদ্যপণ্যে ডিমের ব্যবহার বেড়েছে। যে কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে ডিমের বাজার দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকায়।

ডিমের দাম হঠাৎ অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কেন এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিএ) সভাপতি সুমন হাওলাদার আমার দেশকে বলেন, করপোরেট কোম্পানি ও তাদের নিযুক্ত ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম বাড়িয়েছে| ডিমের ক্রয়মূল্য যাই হোক না কেন, ডিম ব্যবসার সঙ্গে জড়িত সমিতিগুলো মোবাইল ফোনে দাম নির্ধারণে করে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলছে। কিছুদিন আগে দাম কম থাকায় প্রচুর ডিম মজুত করেছে তারা| এখন দাম অস্বাভাবিক বাড়িয়ে মুনাফা করছে।

এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর কাঁচাবাজারগুলোতে ডিমের দাম চড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। বর্তমানে খুচরা বাজারে এক ডজন ফার্মের মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা দরে। অর্থাৎ, একটি ডিম কিনতে সাধারণ মানুষের পকেট থেকে খসছে প্রায় ১৫ টাকার মতো।

কারওয়ানবাজারের ডিম ব্যবসায়ী পলাশ মিয়া আমার দেশকে বলেন, ৫ টাকা ওঠানামা করলেও গত কয়েকদিন ধরে ১৫০ টাকার আশপাশের থাকছে ডিমের ডজন। তবে মুদির দোকানে এ দাম আরো বাড়তি বলে জানান। তিনি বলেন, আড়তেই দাম বেড়েছে, ফলে আমাদেরকে বেশি দামে কিনে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে গতকাল বৃহস্পতিবার ডিমের দাম কিছুটা কমে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী। তিনি আরো বলেন, কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে ডিমের দাম আরো কমতে পারে।

বৃহস্পতিবার সকালে কেরানিগঞ্জ মডেল টাউনের মুদি ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ একডজন ডিমের দাম ১৬০ টাকা এবং বংশালের আবুল কালাম চেয়েছেন ১৬৫ টাকা। তারা বলেন, বাজার থেকেইতো ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা ডজন ডিম কিনতে হচ্ছে। ফলে আমাদেরকে কিছুটা লাভে বিক্রি করতে হচ্ছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার কারওয়ানবাজারে বাজার করতে আসা নজিবুল ইসলাম নামে বেসরকারির চাকরিজীবী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘কয়েক মাস আগেও মাছ-মাংস কিনতে না পারলে দুইটা ডিম এনে লোহা-লক্কড়ের মতো সেদ্ধ করে পরিবার নিয়ে খেয়ে নিতাম। এখন একটা ডিমের দাম ১৫ টাকা, চারজনের পরিবারে শুধু ডিম দিয়ে এক বেলা খেতে গেলেও ৬০ টাকার ওপরে লাগে। আমাদের মতো গরীব মানুষ এখন কী খেয়ে বাঁচবে?’

পাইকারি ব্যবসায়ীদের দাবি, তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে খামারে অনেক মুরগি মারা গেছে, যার ফলে বাজারে ডিমের সরবরাহ কমে গেছে। তবে সাধারণ ক্রেতারা একে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলেই মনে করছেন।

এদিকে সাধারণত বাজারে অন্য সব সবজির দাম যখন চড়া থাকে, তখন কম খরচে পেট ভরানোর একমাত্র উপায় ছিল কাঁচা পেঁপে। ডাল বা আলু দিয়ে পেঁপের তরকারি কিংবা পেঁপে ভর্তা ছিল নিম্নবিত্তের নিত্যদিনের চেনা মেন্যু। কিন্তু সেই কাঁচা পেঁপের দাম এখন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে তা ১২০ টাকা পর্যন্ত ঠেকেছে।

অথচ মাসখানেক আগেও এই পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যেত। হঠাৎ করে তরকারি হিসেবে ব্যবহৃত এই ফলের দাম তিনগুণ হয়ে যাওয়ায় বাজারের ব্যাগ হাতে অসহায় বোধ করছেন ক্রেতারা।

কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা শাহানাজ বেগম আমার দেশকে বলেন, সবজির দামই বাড়তি; তবে কাঁচা পেঁপের দাম একটু বেশি বেড়েছে। আড়তেই পেঁপে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমে ৮০ থেকে একশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরজিনা খাতুন নামে এক ক্রেতা বলেন, কাঁচা পেঁপের দাম এতোবেশি এর আগে কখনো দেখিনি। তাহলে বুঝতেই পারছেন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জীবন কতটা কষ্টে কাটছে। সব পণ্যের দামই তো বাড়তি।

পুষ্টিহীনতার ঝুঁকিতে নিম্নবিত্ত পরিবার

হঠাৎ করে ডিম ও পেঁপের মতো সস্তা খাবারগুলোর দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের পুষ্টির উৎসে বড় ধরনের টান পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, ডিম হচ্ছে সবচেয়ে সহজলভ্য প্রথম শ্রেণির প্রোটিন। আর পেঁপে পেটের নানা সমস্যা দূর করতে এবং ভিটামিনের চাহিদা মেটাতে সাহায্য করে। এই দুটি পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকলে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো, বিশেষ করে শিশুরা মারাত্মক পুষ্টিহীনতার শিকার হবে বলে মনে করেন একটি বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবু আসমা।

নিত্যপণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের আমার দেশকে বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে অস্বাভাবিক হারে। তদারকি সংস্থাগুলোও একপ্রকার নিশ্চুপ থাকছে। মনে হচ্ছে অসাধু ব্যবসায়ীদের ক্রেতার পকেট কাটতে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষের ত্রাহি অবস্থা। এ পরিস্থিতিতে বাজারে সরকারের নজরদারি জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঠিক তদারকি না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়াচ্ছে। গরীবের শেষ আশ্রয় এ খাবারগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারের বাজার মনিটরিং সেলকে আরও কঠোর ভূমিকা রাখার জোর দাবি তিনি।

এএস

জাপানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি চুক্তি মন্ত্রিসভায় অনুমোদন

রামিসার বাবাকে সান্ত্বনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

রামিসার বাসায় প্রধানমন্ত্রী

বৃষ্টিতে কমেছে তাপমাত্রা, কেন ভ্যাপসা গরম কমছে না

দেশে ফিরছেন কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার থেকে পালিয়ে আসা সেই নারী

রামিসা হত্যা-ধর্ষণ মামলায় পরিবারের পক্ষে লড়বেন শিশির মনির

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ চায় এনডিএফ

চট্টগ্রাম ওয়াসার নতুন এমডি সেলিম জানে আলম

মানবাধিকারের এবং স্বাধীন বিচার বিভাগের ক্ষেত্রে নিরেট-স্বচ্ছ আইনের দাবি