আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের নবনিযুক্ত ১৫৩ জন সিনিয়র অফিসারের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য অভিষেক ও পরিচিতিমূলক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাডেমির শহিদ এলাহী বক্স অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সম্মানিত চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মীর মোফাজ্জল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে ব্যাংকের কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো, মূল্যবোধ, সেবাদর্শন এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্পর্কে তাঁদের সম্যক ধারণা প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মহোদয় নবনিযুক্ত সিনিয়র অফিসারদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক শুধু একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান নয়; এটি দেশের প্রায় ৬১ লক্ষ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্য ও তাদের পরিবারের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তিনি ব্যাংকের মিশন, ভিশন ও মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর আদর্শ ও উদ্দেশ্যের সমন্বয় সাধন করে সততা, স্বচ্ছতা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক ব্যাংকিং পরিবেশে একজন কর্মকর্তার শুধু প্রচলিত জ্ঞানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং আধুনিক প্রযুক্তি, ডিজিটাল ব্যাংকিং, তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), তথ্য বিশ্লেষণ এবং গ্রাহকসেবামুখী দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আত্মউন্নয়ন, নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং আজীবন শিক্ষার মানসিকতা ধারণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
চেয়ারম্যান মহোদয় দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকের সার্বিক উন্নয়ন, আধুনিকায়ন এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারমূলক উদ্যোগের ওপর আলোকপাত করেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট এবং আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, আয়বর্ধক কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দারিদ্র্য বিমোচন এবং টেকসই আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি নবনিযুক্ত কর্মকর্তাদের এ প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, একজন ব্যাংকারের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো তার সততা, নৈতিকতা, কর্মনিষ্ঠা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা। তাই প্রত্যেক কর্মকর্তাকে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আইন, বিধি-বিধান ও নৈতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি ব্যাংকের প্রতি আনুগত্য, দলগত কর্মস্পৃহা, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং ইতিবাচক কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে নবনিযুক্ত কর্মকর্তারা ব্যাংকের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় সততা, নিষ্ঠা, দক্ষতা এবং দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। প্রধান অতিথি তাঁদের উদ্দেশ্যে আহ্বান জানান, অর্জিত জ্ঞান, আধুনিক প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী চিন্তাশক্তি এবং সর্বোচ্চ কর্মনিষ্ঠাকে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকের উন্নয়ন, গ্রাহকসেবার উৎকর্ষ এবং দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিতকরণে কার্যকর অবদান রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী একাডেমির কমান্ড্যান্ট, আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের মহাব্যবস্থাপক, উপমহাব্যবস্থাপক এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এএস