সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ফেলানীর ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন (২১) বিজিবির সিপাহি হিসেবে যাত্রা শুরু করেছেন। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের পর সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ নেন আরফান। এর মাধ্যমে বিজিবির গর্বিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন তিনি।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি ১৫ বিজিবি আয়োজিত সিপহি নিয়োগ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে আরাফান উত্তীর্ণ হন।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজের (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী ‘বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে’ কুচকাওয়াজ শেষে নবীন বিজিবি সদস্যদের শপথের আয়োজন করা হয়। এতে বিজিবির ইতিহাসে সর্বোচ্চসংখ্যক ৩ হাজার ২৩ জন নবীন সদস্য দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার শপথ গ্রহণ করছেন। এর মধ্যে পুরুষ ২ হাজার ৯৫০ জন এবং নারী ৭৩ জন।
২০১১ সালে বিএসএফের গুলিতে নিহত হয়েছিল কিশোরী ফেলানী খাতুন। সীমান্ত হত্যার সেই মর্মস্পর্শী দৃশ্য দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ফেলানীর পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায়বিচারের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন (২১) বিজিবির সদস্য হওয়া দীর্ঘদিনের এক চাপা বেদনার মাঝে আশার দীপ্তি এনে দিয়েছে।
পরিবারসহ স্থানীয়দের বিশ্বাস, দেশের জন্য জীবন উৎসর্গ করে যাওয়া বোন ফেলানী খাতুনের অসমাপ্ত স্বপ্ন একদিন আরফান হোসেন পূর্ণ করবেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর অনন্তপুর সীমান্তে ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি বিএসএফের গুলিতে নিহত হওয়ার পর কাঁটাতারে ঝুলে ছিল বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুনের মরদেহ।