হোম > জাতীয়

প্রযুক্তি, কৃষি ও হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানি বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ

জাহিদুল ইসলাম

দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকীকরণ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প এবং হালকা প্রকৌশল খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্ব চেয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সক্ষমতা বাড়াতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

অন্যদিকে, বাংলাদেশে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা)।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরের প্রথম দিনে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে বৈঠক শেষে টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী দক্ষতা উন্নয়নে পাঁচটি সুনির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা, প্রযুক্তি নগরী ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী নগরী প্রতিষ্ঠা এবং কৃষির আধুনিকীকরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে বড় ধরনের বিনিয়োগের জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এছাড়া নতুন সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে হালকা প্রকৌশল শিল্পেও বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের সুযোগ কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা জোরদার করতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বাংলাদেশের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিনিয়োগ অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে তিনি পূর্ণ আশ্বস্ত করেছেন।

হুমায়ুন কবির আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশ ও জাইকার মধ্যকার সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। এর ফলে দেশের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশ-জাপান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এক নতুন মাত্রায় উন্নীত হবে।

সাসাকাওয়ার সম্মানে নৈশভোজ

প্রধানমন্ত্রীর প্রথম দিনের কর্মসূচির শেষ পর্বে জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের সম্মানসূচক চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে এক নৈশভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, ইয়োহেই সাসাকাওয়া জাপানের একজন বিশিষ্ট সুশীল সমাজ ব্যক্তিত্ব। তিনি এর আগে বাংলাদেশ সফর করেছেন এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বাংলাদেশে অবস্থানকালেই তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরে গেলে যেন তাঁকে সরাসরি আতিথ্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় সোমবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে এই বিশেষ নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। নৈশভোজে সাসাকাওয়ার দুই ফাউন্ডেশনের জ্যেষ্ঠ নেতারা এবং বাংলাদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিমন্ত্রী জানান, সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক ও শীর্ষ পর্যায়ের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকের পর সফরের বিস্তারিত গণমাধ্যমকে জানানো হবে।

বাংলাদেশের প্রতি বিশ্ববাসীর আগ্রহ বেড়েছে

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর রক্তক্ষয়ী গণতান্ত্রিক উত্তরণের মধ্য দিয়ে এই সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক নীতি ও নীতিনির্ধারণী অবস্থান সম্পর্কে দক্ষিণ-পূর্ব এশিিয়াসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের অংশীজনদের আগ্রহ বহুগুণ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্বেও রয়েছেন। এ কারণে আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জাপান সফর ঘিরে দেশটির বিভিন্ন মহলের আগ্রহ এবং বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের সম্ভাবনা তারই এক উজ্জ্বল প্রতিফলন। সফরের বাকি দিনগুলোতেও প্রধানমন্ত্রীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে এবং বিভিন্ন পক্ষ তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করবে।

সহায়তানির্ভরতা নয়, বিনিয়োগ অংশীদারত্ব

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৫ বছরে বিভিন্ন কারণে যেসব অর্থনৈতিক সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হয়েছিল, গণতান্ত্রিক উত্তরণের পর সেগুলো এখন নতুন করে উন্মুক্ত হচ্ছে। ওই সময়ে আস্থার সংকট ও দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে নানা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার চায় জাপান এখন বাংলাদেশের সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তিতে নতুন সম্পর্ক গড়ে তুলুক।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশ এখন আর কেবল সহায়তানির্ভরতার ওপর নির্ভর করে এগিয়ে যেতে চায় না। দেশকে নিজ পায়ে দাঁড়াতে হবে এবং পারস্পরিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে শক্তিশালী ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বর্তমান জাপান সফরের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো দুই দেশের মধ্যে টেকসই বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করা।

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

হিট প্রকল্প পরিচালককে অব্যাহতি, নতুন দায়িত্বে অধ্যাপক রাকিবুল

আমার দেশ প্রেসে বোমা হামলা, ডিআরইউর তীব্র নিন্দা

সাবমেরিন ক্যাবলসের নতুন এমডি তারঘীবুল ইসলাম

টোকিওতে নিপ্পন-সাসাকাওয়ার আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী

আমার দেশ-এর প্রেসে বোমা নিক্ষেপ, জড়িতদের শাস্তি দাবি বিএফইউজে-ডিইউজের

প্রাথমিকে ৩৪ হাজার প্রধান শিক্ষক দ্রুত নিয়োগ করা হবে: ববি হাজ্জাজ

আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ বিষয়ক বক্তব্যকে এবার ‘রূপক’ বলল পুলিশ

নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজে মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী

ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে অভিযানে নামছে ২০টি পরিবীক্ষণ টিম