রাজধানীর বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে চীনা কোম্পানি। আগামী দেড় বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু হওয়া এ বিদ্যুৎ কিনবে সরকার। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ২৫ টাকা। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সৌজন্য সাক্ষাত শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে নিজস্ব গ্যাসের মাধ্যমে উৎপাদিত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ পড়ে ছয় থেকে সাত টাকা। আর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ক্যাপাসিটি চার্জসহ প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে খরচ হয় ১২ থেকে ১৪ টাকা। বিপিডিবি বেসরকারি ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার থেকে গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১৪.৪৫ টাকা দরে কিনছে। অন্যদিকে বিভিন্ন উৎস থেকে ভিন্ন দামে কেনা বিদ্যুৎ সরকার পাইকারি পর্যায়ে বিক্রি করছে গড়ে ৮.৩৯ টাকা দরে।
তিনি জানান, ঢাকার আমিনবাজারের ল্যান্ডফিলে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে চীনা শ কোম্পানি। প্রকল্পটি চালু হলে বর্জ্য থেকে এর ৪২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে জাতীয় ন গ্রিডে সরবরাহ করা হবে। এ প্রকল্পের - আনুষ্ঠানিক ত্রিপক্ষীয় চুক্তি আগামী ২ সেপ্টেম্বর চীনের বেইজিংয়ে হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে প্রকল্পটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে চুক্তি হয়েছে। চূড়ান্ত অর্থায়ন চুক্তি হবে বিনিয়োগকারী ব্যাংক, কোম্পানি ও বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যে।
২৫ টাকা দরে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কেনার খরচ একটু বেশি মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি আমাদের জন্য লাভজনকই হবে মন্তব্য করে মীর শাহে আলম বলেন, আমরা তাদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ কিনব এটা এমনিতে মনে হচ্ছে অনেক বেশি। কিন্তু আমাদের লাভটা হচ্ছে। অন্য জায়গায়। আমাদের ময়লা-আবর্জনাগুলো তো তারা ধ্বংস করে দিচ্ছে এবং সেখানে যে ময়লা-আবর্জনা ওয়েস্ট থাকছে, সেখান থেকে জৈবসার হচ্ছে।
চীনা কোম্পানি ল্যান্ডফিল ব্যবহার করবে জানিয়ে তিনি বলেন, এজন্য তারা সিটি করপোরেশনকে মাসিক একটা ভাড়া দেবে এবং এ জায়গায় বাংলাদেশ সরকারের বিন্দুমাত্র ইনভেস্ট করতে হচ্ছে না।
ময়লা-আবর্জনা আমাদের এ জাতির জন্য, ঢাকা শহরের জন্য একটা বড় বোঝা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে যদি তারা বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমাদের কাছে বিক্রি করে, এ দামটা বেশি মনে হলেও পরিবেশের দিক বিবেচনা করলে আমাদের ওই খরচটা অন্যভাবে চলে আসবে।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং মোংলা বন্দর উন্নয়নেও চীনের আগ্রহ রয়েছে জানিয়ে শাহে আলম বলেন, মোংলা বন্দর উন্নয়নের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দরের সঙ্গে সংযোগ বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মতো ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ময়লা থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য চীনা কোম্পানিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, 'পাওয়ার চায়না নামে একটি কোম্পানি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। আমরা বললাম, কোম্পানিটিকে আপনারা একটু অনুরোধ করেন, যাতে দ্রুত তারা আমাদের দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ল্যান্ডফিল্ডে যে ওয়েস্ট আছে, এ ওয়েস্ট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আমাদের জাতীয় গ্রিডে দিতে পারে।
এখান থেকেও প্রতিদিন ৪০-৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব বলে জানান তিনি।