ঢাকায় চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাস।
বুধবার (১৮ মার্চ) দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করেছি যে, আজ সকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূতের উপস্থিতিতে আয়োজিত একটি চ্যারিটি ইভেন্ট নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কিছু বিষয়বস্তু বা তথ্য বাস্তবের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, আমরা বাংলাদেশের প্রতি চীনের বন্ধুত্বপূর্ণ নীতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করছি এবং জোর দিয়ে বলছি যে, আমরা নির্বাচিত সরকারের সুষ্ঠু শাসনে সমর্থন জানাই। দুই দেশের জনগণের জন্য আরো সুফল বয়ে আনতে আমাদের মধ্যকার বন্ধুত্বকে আরো এগিয়ে নিতে আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাব।
গতকাল রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যৌথভাবে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করে চীনা দূতাবাস। ওই কর্মসূচির পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে দাবি করা হয়, জামায়াতে ইসলামী বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। মূলত এর পরিপ্রেক্ষিতেই দূতাবাস এই স্পষ্টীকরণ বার্তা দিয়েছে।
চীনা দূতাবাসের বিবৃতিতে জামায়াতে ইসলামীর কর্মকাণ্ডের সাথে তাদের উদ্যোগের সামঞ্জস্য না থাকার ব্যাপারে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল সেক্রেটারি হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এ নিয়ে এখন কিছু বলতে পারব না।'
উল্লেখ্য, দূতাবাস এবং জামায়াত—উভয় পক্ষের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এই বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ওই এলাকার এক হাজারের বেশি বাসিন্দার হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান উপস্থিত থেকে এসব প্যাকেট হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন এমন সব প্রকল্প বাস্তবায়ন অব্যাহত রাখবে যা উভয় দেশের মানুষের কল্যাণে আসবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত করবে।
সহায়তার জন্য চীনা দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, এটি বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে চীনের বন্ধুত্বেরই প্রতিফলন।