প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান বাঙালি জাতির জন্য বিশেষ প্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছিল।
বৃহস্পতিবার রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তার অমর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণ ছিল রবীন্দ্রনাথের সৃজনশীলতার মূল অন্বেষা। কাব্য, সংগীত, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, নৃত্যনাট্য ও চিত্রকলায় তিনি মানবতা, প্রেম, শান্তি ও প্রকৃতির জয়গান গেয়েছেন অনন্য শিল্পকুশলতায়। তাঁর সৃষ্টিকর্ম বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির অমূল্য সম্পদ হয়ে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, রবীন্দ্রনাথ তাঁর যুক্তিবোধ ও মঙ্গলচিন্তার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিকতার বাণী বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের জাতীয় জীবনের নানা ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য।
প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, শাশ্বত বাংলার মানুষের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা ও জীবনসংগ্রাম বিশ্বস্ততার সঙ্গে উঠে এসেছে রবীন্দ্রসাহিত্যে। সাধারণ মানুষের দুঃখ-বেদনার কথক হিসেবে যে রবীন্দ্রনাথকে আমরা পেয়েছি, তা তৎকালীন পূর্ববঙ্গ তথা আজকের বাংলাদেশেরই সৃষ্টি।
তিনি বলেন, রবীন্দ্রনাথের অনবদ্য সৃষ্টি আমার সোনার বাংলা আজ বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ১৯১৩ সালে ‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের জন্য নোবেল পুরস্কার অর্জনের মাধ্যমে রবীন্দ্রনাথ বিশ্বজুড়ে আলোচনায় আসেন এবং তিনিই প্রথম এশীয় হিসেবে বিশ্বসাহিত্যের সর্বোচ্চ এই স্বীকৃতি লাভ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-সংঘাত, উগ্রবাদ ও জাতিতে জাতিতে হানাহানির প্রেক্ষাপটে রবীন্দ্রনাথের মানবতাবাদী দর্শন আজ আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মানুষের কল্যাণে শিক্ষার বিভিন্ন স্তর নিয়ে রবীন্দ্রনাথ গভীরভাবে চিন্তা করেছেন। নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় আলোকিত করতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শান্তিনিকেতন। পাশাপাশি পুথিগত শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
রবীন্দ্র-জন্মবার্ষিকীর এবারের আয়োজন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
এএস