মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে রয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) সাতটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ের জেবেল আলি বন্দরে আটকে আছে। বাকি ছয়টি জাহাজ বিভিন্ন দেশে নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিএসসি ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ। মন্ত্রণালয় ও বিএসসি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক আমার দেশকে বলেন, একটি ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে নেই। অধিকাংশ জাহাজ নিরাপদ রুটে রয়েছে এবং পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
মন্ত্রণালয় ও বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের বহরের সাতটি জাহাজ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে পণ্য পরিবহন করছে। এমভি বাংলার জয়যাত্রা সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলি বন্দরে আটকে আছে। জাহাজটিতে ৩১ জন বাংলাদেশি নাবিক রয়েছেন। পণ্য খালাসের পর জাহাজটির কুয়েতে গিয়ে সালফার আনার কথা ছিল। তবে পণ্য খালাস শেষ করলেও জ্বালানি নিতে না পারায় বন্দর থেকে বের হতে পারছে না। গত অক্টোবরে জাহাজটি বাণিজ্যিকভাবে নামানো হয়। জাহাজের নাবিকদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে নিদের্শনা দেওয়া হয়েছে। নাবিকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানিয়েছে বিএসসি সূত্র।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, বহরের অন্য জাহাজগুলোর মধ্যে এমভি নবযাত্রা যুক্তরাষ্ট্রে, এমটি বাংলার অগ্রদূত কানাডায়, এমটি বাংলার অগ্রগতি সিয়েরা লিওনে, এমভি বাংলার প্রগতি সেনেগালে, এমটি বাংলার অগ্রযাত্রা পাকিস্তানে এবং এমভি বাংলার অর্জন রাশিয়ায় অবস্থান করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক রুটে চলাচল করা এসব জাহাজ বিভিন্ন ধরনের বাল্ক কার্গো পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও এসব জাহাজ সরাসরি জ্বালানি তেল বহন করে না, তবুও দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এদের পরোক্ষ ভূমিকা রয়েছে। কারণ বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) জ্বালানিবাহী জাহাজ পরিচালনায় বিএসসি আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মাদার ভেসেলের সহায়তা দিয়ে থাকে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালি হয়ে বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পরিবহন হওয়ায় ওই রুটে কোনো ধরনের অস্থিরতা তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে বিএসসির জাহাজগুলো নিরাপদ অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এই সাতটি জাহাজ সরকারি অর্থায়নে বাণিজ্যিকভাবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রুটে চলাচল করছে। এসব জাহাজের জন্য নেওয়া ঋণ ১৫ বছর মেয়াদে পরিশোধ করতে হবে বিএসসিকে। ২০২৫ সাল থেকে ঋণের কিস্তি দেওয়া শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধের কারণে কোনো জাহাজ দুর্ঘটনায় পড়লে বিএসসির জন্য তা কাটিয়ে উঠা কঠিন হবে।
গত অর্থবছর রাষ্ট্রীয় এই জাহাজ খাত থেকে বিএসসির নিট লাভ হয় ৩০০ কোটি টাকা, যা দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা হয়। দৈনিক একটি জাহাজের ভাড়া ২০ হাজার ডলার।