তথ্যমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশের প্রবাসী কর্মসংস্থান এখনো প্রচলিত কয়েকটি গন্তব্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। নতুন শ্রমবাজার অনুসন্ধানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে এসব বাজার খুঁজে বের করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ বিয়ন্ড বর্ডারস’ শীর্ষক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সেন্টার ফর এনআরবি।
তথ্যমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন বলেন, দেশের মধ্যে আমাদের সবচেয়ে বড় সম্পদ হচ্ছে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী। এই বিশাল শ্রমশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে প্রতিষ্ঠিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের (এনআরবি) সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। নতুন শ্রমবাজার চিহ্নিত করা ও সম্প্রসারণে নীতিগত সহায়তা দিতে তাদের এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের তৈরি পোশাক রপ্তানি এবং রেমিট্যান্সই হচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান উৎস। আমাদের পররাষ্ট্র নীতির মূল এজেন্ডা হওয়া উচিৎ রপ্তানি ও রেমিট্যান্স বাড়ানো।
তিনি আরও বলেন, রপ্তানি বহুমুখীকরণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিকে দেশের পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রবাসী আয়ের প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকিং চ্যানেলে আস্থা তৈরি এবং প্রণোদনা অব্যাহত রাখা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বিদেশে বাংলাদেশের মিশনগুলো প্রত্যাশিত মানের সেবা দিতে পর্যাপ্ত সক্ষম নয়। আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরতেও ঘাটতি রয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন। একই সঙ্গে দেশের সাফল্য ও সম্ভাবনার গল্প বিশ্ববাসীর কাছে যথাযথভাবে তুলে ধরতে না পারার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
সেন্টার ফর এনআরবির চেয়ারম্যান এমএস সেকিল চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এ সম্মেলনে বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা প্রবাসী কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।