ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনার জেরে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের ‘অনড় অবস্থানের’ কথা আবারও জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে বিফ্রিংয়ে তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের অবস্থান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নাই।’’
‘‘আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ ক্রিকেট খেলতে চাই, সেটা আমরা শ্রীলঙ্কাতেই খেলতে চাই এবং এটা আয়োজন করা অসম্ভব না বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে বাংলাদেশের দল যাবে কী না এ বিষয়ে আলোচনা করতে আইসিসির একটি দল ঢাকায় এসেছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানান ক্রীড়া উপদেষ্টা।
ভারতে বাংলাদেশের খেলতে না যাওয়ার ঘটনার শুরু ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে। গত কিছুদিন ধরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর উঠে আসছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস নানা ঘটনার পর ভারতে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। মুস্তাফিজের আইপিলে খেলতে দেওয়া নিয়েও নানা বিতর্ক চলছিল।
এসবের জের ধরে গত ৩ জানুয়ারি ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, বাংলাদেশের পেসারকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) নির্দেশ দিয়েছেন তারা। এর পরই কেকেআর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া বাংলাদেশি পেসারকে ছেড়ে দেওয়ার কথা জানানো হয়।
এরপর তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় বাংলাদেশে। সেদিন রাতেই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ফেইসবুকে পোস্টে বলেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না।
বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেন ওই পোস্টে।
এরপর পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সব খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে ৫ জানুয়ারি নির্দেশ আসে তথ্য মন্ত্রণালায়ের তরফ থেকে।
এসবের ধারাবাহিকতায় নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। পরদিন আইসিসির কাছে তা জানিয়ে চিঠি দেয় বিসিবি। বাংলাদেশের ম্যাচগুলি ভারতের বাইরে নেওয়ার অনুরোধ করা হয় সেই চিঠিতে।
এ নিয়ে আইসিসির সঙ্গে আলোচনা ও চিঠি চালাচালির মধ্যে বৃহস্পতিবার আবারও শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার আগ্রহের বিষয়ে অনড় থাকার কথা বললেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।