হোম > জাতীয়

শাপলা গণহত্যার পরিকল্পনা ও ভূমিকায় ছিলেন বেনজীর

আমার দেশ অনলাইন

মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে গণহত্যার পরিকল্পনা ও ভূমিকায় ছিলেন তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার বেনজীর আহমেদ। গত ১২ জুন আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তায় পলাতক বেনজীরকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়।

রোববার জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমদকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে গণহত্যার ছক তৈরি করেছিলেন বেনজীর। গণহত্যা পরিকল্পনা চূড়ান্ত ও বাস্তবায়নে বেনজীর আহমেদের সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার তৎকালীন প্রধান লে. কর্নেল জিয়াউল আহসান এবং বিজিবির তৎকালীন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ।

একসময়ের দোর্দণ্ড প্রতাপশালী সাবেক এই আইজিপির বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার, ১৯৭৩-এর আওতায় একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

শেখ হাসিনার নির্দেশে শাপলা চত্বর ক্লিয়ার করার জন্য বেনজীর আহমেদ, জিয়াউল আহসান এবং আজিজ আহমেদ ছাড়াও দায়িত্বে ছিলেন পুলিশের সাবেক আইজি হাসান মাহমুদ খন্দকার, অতিরিক্ত আইজিপি শহীদুল ইসলাম, র‌্যাবের ডিজি মোখলেসুর রহমান, ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদ, র‌্যাব-১০-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ইমরান, র‌্যাব-৩-এর অধিনায়ক মেজর সাব্বির, র‌্যাব-১-এর পরিচালক লে. কর্নেল কিসমত হায়াত, র‌্যাব-৪-এর পরিচালক কামরুল হাসান, বিজিবির কর্নেল এহিয়া আজম খানসহ পাঁচ কমান্ড অফিসার, হাইওয়ে রেঞ্জের ডিআইজি আসাদুজ্জামান মিয়া, এসবির অতিরিক্ত ডিআইজি মাহবুব হোসেন, মতিঝিল বিভাগের এডিসি এসএম মেহেদী হাসান, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার আবদুল জলিল মণ্ডল, যুগ্ম কমিশনার শেখ মারুফ হাসান, উপকমিশনার আনোয়ার হোসেন, এডিসি আসাদুজ্জামান, এডিসি মোহাম্মদ মাইনুর হাসান, রমনা বিভাগের এডিসি মঞ্জুর রহমান, ডিবির অতিরিক্ত উপকমিশনার মশিউর রহমান, ডিবি দক্ষিণের এডিসি নাসির উদ্দিন খান, লালবাগের তৎকালীন ডিসি হারুনুর রশীদ ও উপকমিশনার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান।

শাপলা সমাবেশ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ‘বীরত্ব’ দেখানোর জন্য এদের অনেককেই পুরস্কৃত করা হয়। বেনজীর আহমেদ পুলিশের আইজি হন, লে. কর্নেল জিয়াউল আহসানকে একের পর এক পদোন্নতি ও দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাকে লে. জেনারেল পদে উন্নীত করা হয়। হাসান মাহমুদ খন্দকারকে বিদেশে রাষ্ট্রদূত করা হয়। জেনারেল আজিজ আহমদকে সেনাবাহিনীর প্রধান করা হয়। হেফাজতের সমাবেশ দমনে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য পুলিশের পদক দেওয়া হয় অনেককে। এর মধ্যে ডিবি হারুন ছিলেন অন্যতম। এই ডিবি হারুনই লালবাগ মাদরাসায় হেফাজতের প্রধান আল্লামা শফিসহ অন্যদের অবরুদ্ধ করে সমাবেশ সমাপ্ত ঘোষণার জন্য চাপ দিতে থাকেন। কিন্তু তারা এ ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানালে ডিবি হারুন আল্লামা শফিকে বিমানবন্দরে নিয়ে যান এবং নিজের টাকায় টিকিট কিনে বিমানে তুলে তাকে হাটহাজারী পাঠিয়ে দেন। হেফাজত নেতাকর্মীদের শায়েস্তা করতে তিনি শক্ত হাতে দমন অভিযানও চালান।

রোববার জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ফেডারেল ক্রিমিনাল পুলিশ এবং ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি থেকে প্রেরিত এক ই-মেইলে বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়েছে যে, বেনজীর আহমেদকে ইউএই পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে এবং তিনি বর্তমানে সেখানে আটক রয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ইউএই’র ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেফতারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (এক্সট্রাডিশন) আবেদন পাঠাতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

তিনি জানান, বেনজীর আহমেদকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি), ঢাকা ইন্টারপোলের কাছে প্রয়োজনীয় আবেদন করেছিল। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল ইন্টারপোল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোল সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে তাকে শনাক্ত ও গ্রেফতারের অনুরোধ জানায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এনসিবি ঢাকা ইতোমধ্যে ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রত্যর্পণের জন্য প্রয়োজনীয় মামলা, গ্রেফতারি পরোয়ানা ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুত করছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত ও অনুমোদনের কাজ সম্পন্ন করবে এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইউএই কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক এক্সট্রাডিশন রিকুয়েস্ট পাঠানো হবে।

এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর আবুধাবির সঙ্গে এনসিবির সমন্বয়ের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদকে দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসার পথে দেশ আরও একধাপ এগিয়ে যাবে। একইসঙ্গে জাতিকে আমরা আশ্বস্ত করতে চাই যে, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

তিনি বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহিমূলক বিচারব্যবস্থা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এ ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এএস

এআই ক্যামেরায় শনাক্ত, একাধিক দেশের পাসপোর্টসহ গ্রেপ্তার বেনজীর

আগস্টে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে রূপপুরের বিদ্যুৎ

বসিলা থেকে জাবি শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি করবে স্থানীয় প্রশাসন

বিআরটি প্রকল্প নিয়ে সভা করলেন প্রধানমন্ত্রী

শিবির নেতা জিসান ইস্যুতে উত্তপ্ত সংসদ

পাবলিক পরীক্ষায় স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন সরকারের বিবেচনায়: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষার্থী সাজ্জাদুলের উদ্ভাবিত পণ্য পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর

গণমাধ্যমকে অন্ধকার গলি থেকে মুক্ত আকাশে বের করেছেন শহীদ জিয়াই: তথ্যমন্ত্রী

অযৌক্তিক অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার রোধে সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি: প্রতিমন্ত্রী টুকু