হোম > জাতীয়

যমুনা ঘিরে কড়া নিরাপত্তা, কর্মচারীদের ঘেরাও ও ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার

রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ঘিরে শুক্রবার একযোগে দুটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও কঠোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। একদিকে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি, অন্যদিকে সরকারি চাকরিতে নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়নের দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের যমুনা অভিমুখী মিছিল—এ দুই কর্মসূচি ঘিরে শাহবাগ, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও কাকরাইল মোড় এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

তবে শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও নবম পে-স্কেল ঘোষণার দাবিতে সরকারি কর্মচারীদের যমুনা অভিমুখী ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই শাহবাগ-ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে অবস্থান নেন শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্ররা। সেখানে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের অবস্থান সীমিত রাখে। ছাত্ররা স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন। একই সঙ্গে যমুনার চারপাশের সব প্রবেশপথে বাড়ানো হয় পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে প্রস্তুত রাখা হয় জলকামান এবং বসানো হয় একাধিক চেকপোস্ট।

অন্যদিকে সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সকাল থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সমাবেশ করেন বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা। পরে বেলা ১১টার দিকে তারা একটি বড় মিছিল নিয়ে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হন। মিছিলটি প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ প্রথমে শাহবাগে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

একপর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে। এরপর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে দফায় দফায় টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়। এতে কয়েকজন আহত হন এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবু পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা যমুনার দিকে এগিয়ে যান এবং সেখানে অবস্থান নেন।

দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর উপস্থিতিতে পুলিশ আবারও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হয়। তিনি আমার দেশকে বলেন, প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সভা-সমাবেশ ও জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা আইনগতভাবে মোকাবিলা করা হবে।

নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে যমুনা, কাকরাইল মসজিদ ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এলাকায় ছয় প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ডিএমপি ফোর্স, র‍্যাব ও অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের টহল বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি জোরদার করা হয়েছে।

আন্দোলনরত সরকারি কর্মচারীরা জানান, নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশ করে ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর না করা হলে তারা কর্মসূচি আরও কঠোর করবেন। এর আগে তারা টানা তিন দিন দুই ঘণ্টা করে এবং বৃহস্পতিবার চার ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেন। আজ শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত সারা দেশে সরকারি, আধা সরকারি ও পে-স্কেলের আওতাভুক্ত সব দপ্তরে কর্মবিরতি পালিত হয়েছে।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে যমুনার সামনে ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচিও চলছে। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদী হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে তাদের এই কর্মসূচির কারণে যমুনা ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা বলয় আরও শক্ত করা হয়েছে।

২৩ জন আহত হলেও কেউ গুলিবিদ্ধ নয়

সবাইকে রাজু ভাস্কর্যে অবস্থান নেয়ার আহ্বান ইনকিলাব মঞ্চের

বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পেলেন ১৪৯০ জন

পুলিশ-ইনকিলাব মঞ্চ সংঘর্ষ, জাবেরসহ আহত ২৩

ভোটকেন্দ্র ধূমপানমুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের

ইনকিলাব মঞ্চের জাবের আহত

হামলার পর যা বললেন ইনকিলাব মঞ্চের জাবের

ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ

নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ৯-১৪ ফেব্রুয়ারি জাপানের পর্যবেক্ষক দল থাকবে

প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি, বিজিবি মোতায়েন