জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, আওয়ামী লীগ এ দেশের সর্বনাশ করে গেছে। অনিয়ম-দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থেকে তারা দেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে। অথচ ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা সবাই বর্তমানে কারাগারে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারো বিচার হয়নি।
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বড় অদ্ভুত দেশ আমাদের। এখানে অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা দুর্নীতিবাজ, চোর। তারা ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে থাকে। এ কারণে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।
রোববার বিকালে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা বিএনপি আয়োজিত উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী মাফিয়াগোষ্ঠী আয়নাঘর নামে টর্চার সেল বানিয়ে নিরীহ মানুষদের নির্যাতন করেছে। জামায়াতের এমপি আহমদ বিন কাসেমকে আট বছর ধরে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। বিনা অপরাধে সালাউদ্দিন কাদেরসহ অসংখ্য মানুষকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করেছে। এজন্য ২০২৪ সালে একটি অভ্যুত্থান হয়েছে, আল্লাহর গজব তাদের ওপর নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, এতকিছু করার পরও তাদের মধ্যে এতটুকু অনুশোচনা নেই। এদের শাস্তি দেবে আমাদের সরকার। প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতকে এই মাফিয়া সরকার সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে কিন্তু সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা বন্ধ করতে পারেনি।
স্পিকার বলেন, ২০০৬ সালে এ দেশে কোনো মাদক ছিল না, এসব আওয়ামী লীগ সৃষ্টি করেছে। তারা নিজেরা মাদক খায় আবার তারাই বিক্রি করে।
এ সময় স্পিকার জনগণকে রাস্তাঘাটসহ বিভিন্ন উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তজুমদ্দিন উপজেলাকে পৌরসভায় রূপান্তরের আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, লালমোহন থেকে সর্বপ্রথম আমিই সেনাবাহিনীতে যোগদান করেছিলাম, মেজর জিয়াউর রহমান ছিলেন আমার প্রশিক্ষক।
জনগণের উদ্দেশে স্পিকার আরো বলেন, বাংলাদেশের সুনাম যেন অক্ষুণ্ণ থাকে সেদিকে সচেষ্ট থাকবেন।
অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদ রিন্টুর সঞ্চালনায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা মিন্টু।