ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শাহ আলীর মাজারে আক্রমণের ঘটনা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভিষ্টের পরিপন্থী। এই অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানোর পাশাপাশি দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
একইসঙ্গে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার অধিকার ও সহাবস্থান বিষয়ে জামায়াতসহ অন্যান্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের নীতিগত অবস্থানও পরিষ্কার করার আহ্বান জানায় সংস্থাটি।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই নির্লজ্জ ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ রক্তস্নাত জুলাই আন্দোলনের ফলে কর্তৃত্ববাদ পতন । পরবর্তী প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বাংলাদেশের লোকজ ঐতিহ্যের পরিপন্থী শক্তির উত্থান ও দেশব্যাপী বহুমত, বহুধর্মী, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর সহিংস ও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা। এটাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার কোনো সুযোগ নেই। বরং সুপরিকল্পিতভাবে বিদ্বেষ ও হিংসা ছড়িয়ে আবহমান বাঙালীর উদারনৈতিক লোকজ ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যময় চর্চার ক্ষেত্র ও মাধ্যমসমূহ ধ্বংস করে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বিকশিত করার সুদূরপ্রসারী ছকের অংশ। যা মুক্তচিন্তা ও সহিষ্ণু আচরণের ধারক ও বাহক তথা সকল দেশবাসীর জন্য অশনিসংকেত।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ও অভীষ্টের ধারক শক্তি হিসেবে বিপুল জনসমর্থনে নির্বাচিত বর্তমান বিএনপি সরকার। এ আমলে বহুসংস্কৃতি ও বহুধর্মী বাংলাদেশের গৌরবময় ঐতিহ্য ও ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রত্যাশার পাশাপাশি এদেশের চিরায়ত সাংস্কৃতিক, আধ্যাতিক, সামাজিক বৈচিত্র্যের সহাবস্থান পরিপন্থী এ ধ্বংসাত্মক অপতৎপরতা প্রতিরোধের দায়িত্ব সরকারের। আমরা শাহ আলীর মাজারের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নির্মোহ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোরভাবে দৃষ্টান্তমূলক জবাবদিহি নিশ্চিতের জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি।
একইসঙ্গে, ইতোপূর্বে সংঘটিত ঘটনাবলী বিবেচনায় নিয়ে প্রতিটি ঘটনার তদন্তপূর্বক জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা জরুরি। কেননা এর আগে বাউল, সাধক ও মাজার আক্রমণ ও সহিংস ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে ন্যায়বিচারের ন্যূনতম দৃষ্টান্ত যদি থাকতো, তাহলে শাহআলীর মাজারের ঘটনা এড়ানো যেতো বলে বিশ্বাস করি।
এমই