বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস আজ
‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শনিবার সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস।
জনবহুল এই দেশে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ কর্মক্ষম বয়সের হওয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিশাল সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড’ বা জনমিতিক সুবিধাকে কাজে লাগাতে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং মানসম্মত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা। জাতিসংঘের ভাষায়, এটি একটি ‘উইন্ডো অব অপরচুনিটি’। তবে সঠিক শিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, তথ্যপ্রযুক্তি সক্ষমতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না হলে এই জনমিতিক সুবিধা ভবিষ্যতে জনমিতিক চাপে পরিণত হতে পারে। বর্তমানে দেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করলেও সেই অনুপাতে মানসম্মত কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে না, যা শিক্ষিত বেকারত্ব ও দক্ষতার ঘাটতির মতো উদ্বেগজনক পরিস্থিতির জন্ম দিচ্ছে।
স্বাধীনতার পর পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচিতে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, বর্তমান প্রেক্ষাপট ভিন্ন। বড় শহরগুলোতে জনসংখ্যার অত্যধিক চাপে আবাসন সংকট, যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদাগুলো হুমকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় এলাকা থেকে অভ্যন্তরীণ অভিবাসন এই চাপকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘পরিবার পরিকল্পনার সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তরুণদের শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যসেবা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় বিনিয়োগ করতে হবে। পরিকল্পিত জনসংখ্যাই পারে টেকসই, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের ভিত্তি গড়ে তুলতে।’
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকরা এতে অংশ নিয়েছেন। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণী দিয়েছেন। সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ও বাংলাদেশ বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হচ্ছে।
বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস কেবল জনসংখ্যা বৃদ্ধির হিসাব কষার দিন নয়, বরং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির উপলক্ষ। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কেবল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রির ওপর নির্ভর না করে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উৎপাদনশিল্প এবং আধুনিক কৃষিতে দক্ষ জনবল তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে নারীর ক্ষমতায়ন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং কিশোর-কিশোরীদের প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, পরিকল্পিত পরিবার শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের উপায় নয়, এটি মা ও শিশুর সুস্বাস্থ্য এবং পারিবারিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও ভিত্তি। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতকের পুষ্টি এবং প্রসব-পরবর্তী সেবায় দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগই পারে এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে একটি উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করতে।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির গভর্নিং কাউন্সিল ১১ জুলাইকে বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়। ১৯৯০ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
এমবি