চব্বিশের জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ফ্যাসিবাদ বিলোপ ও নতুন সংবিধান প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। সংগঠনটি বলছে, পুরানো ফ্যাসিবাদী কাঠামো পরিবর্তন করতে নতুন সংবিধান প্রণয়ন না করায় জুলাই বিপ্লবে আত্মদানকারী সাধারণ ছাত্রজনতা বিপ্লবের হিস্যা পায়নি।
শুক্রবার রাজধানীর আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত আয়োজিত এক শোভাযাত্রায় এ কথা বলা হয়।
ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকার পতনে স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী; পথশিশু, কৃষক ও শ্রমিকদের অবদানকে স্মরণ করতে সংগঠনটি ঘোষিত '১৮ জুলাই গণপ্রতিরোধ দিবস' উপলক্ষে এ শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
এতে বক্তৃতা করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুদ্দিন আহমেদ ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ ও সদস্য সচিব ফজলুর রহমান।
বক্তৃতায় মোহাম্মদ শামসুদ্দীন বলেন, জুলাই বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা যারা করছে তারা কারা? আপামর জনসাধারণের অংশগ্রহণে যে বিপ্লব সংগঠিত হয়েছে তাতে কারা ছিলাম আর কীভাবে ছিলাম তা যারা জানে না তারা তালিকা করেছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়েছে মূলত, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, মাদ্রাসা, স্কুল ছাত্রের সাথে কৃষক, শ্রমিক, রিকশাজীবি, পথ শিশুদের সংগ্রামের মাধ্যমে। তাদের অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি ও বিপ্লবের হিস্যা দিতে হবে।
সাইয়েদ কুতুব বলেন, খুনি হাসিনা ছাত্রদের হত্যা করে কোটা আন্দোলন বন্ধ করে দিতে সকল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে হলগুলো থেকে ছাত্রদের জোড় করে তাড়িয়ে দেয়। হাসিনা ভেবেছিল এতে করে আন্দোলন বন্ধ হয়ে যাবে। ঠিক তখনই এই আন্দোলন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল কলেজ, মাদ্রাসা ও কৃষক শ্রমিক ও পথশিশুরা প্রতিরোধ গড়ে তোলে কোটা আন্দোলন কে গণঅভ্যুত্থানে রূপান্তরিত করে।
তিনি বলেন, বিপ্লব সফল হওয়ার পরে বিপ্লবী সরকার গঠন না করে বৈষম্যমূলক সরকার গঠন করে বঞ্চিত করা হয় প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের, মাদ্রাসা ছাত্রদের, পথশিশু ও কৃষক শ্রমিকদের। আমরা চাই সকলকে নিয়ে বিপ্লবী সরকার গঠন করে বৈষম্য দূর করা হোক।
আবদুল ওয়াহেদ বলেন, এক বছর পর ফিরে এসেছে সেই ঐতিহাসিক ১৮ জুলাই যেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলসহ সারা বাংলাদেশের ইউনিভার্সিটিগুলো হাসিনার দালাল ভিসিরা জোর করে বন্ধ করার পর প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীসহ কৃষক, দিনমজুর ও পথশিশুরা নেমে এসেছিল সারা বাংলাদেশে।
তিনি বলেন, খুবই পরিতাপের বিষয় এই যে,যারা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রেখেছে তাদেরকে তাদের ত্যাগের মর্যাদা দেওয়া হয়নি।এতো এতো শহীদ হওয়ার পরেও তাদেরকে রাষ্ট্রক্ষমতার সাথে যুক্ত করা হয়নি।আজকের এ শোভাযাত্রা থেকে সরকারের প্রতি তাদের হিস্যা বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানাই।
শোভাযাত্রায় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সহকারী সদস্য সচিব আব্দুস সালাম, সদস্য রাজু আহমেদ সদর, তপু তৌহিদ, আবু সাইদ সুমন, হারুনর রশীদ, সাইদুল ইসলাম ও মিনহাজ খান; বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব মুহিব মুশফিক খান বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম, ঢাকা আলিয়া শাখার সদস্য সচিব মো: জিনাত হোসাইন, সিনিয়র সহকারী সদস্য সচিব শরিফ খান, সদস্য কাজী নাফিজ প্রমুখ।