সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েও নিয়োগ ও পদায়ন না হওয়ায় সাড়ে ১৪ হাজার প্রার্থী আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা দিয়েছেন। তারা আগামী রোববার সকাল ১১টা থেকে শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন এবং নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
আজ বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন প্রার্থীরা। এর আগে কর্তৃপক্ষকে তাদের দেওয়া ১০ দিনের আল্টিমেটাম প্রত্যাহার করে সরাসরি আন্দোলনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা।
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীরা বলছেন, গত ৮ ফেব্রুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়, যেখানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নির্বাচিত করা হয়। ফল প্রকাশের পর নিয়ম অনুযায়ী তারা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সনদ ও ডোপ টেস্ট রিপোর্টসহ প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র জমা দেন। কিন্তু আড়াই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়োগপত্র পাননি তারা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নিয়োগের আশায় অনেক প্রার্থী তাদের আগের বেসরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। ফলে নিয়োগ ঝুলে থাকায় তারা পরিবারসহ চরম আর্থিক ও মানসিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। প্রার্থীদের অভিযোগ, গত ২২ এপ্রিল প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে এক ধরনের দোদুল্যমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা তাদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১ মার্চের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে সব মূল সনদ যাচাই ও পরিচিতি সম্পন্ন হয়েছে। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও নিয়োগপত্র না দেওয়াকে তারা কর্তৃপক্ষের ‘প্রহসন’ হিসেবে দেখছেন। এ বিষয়ে তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সংবাদ সম্মেলন করে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেও এখনো কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় গত ৯ জানুয়ারি সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন প্রার্থীর মধ্য থেকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হন ১৪ হাজার ৩৮৪ জন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায়, বিগত সরকারের আমলেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছিল।
প্রার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে শাহবাগে সুশৃঙ্খলভাবে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু হবে। নিয়োগ ও পদায়ন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
এমপি