হোম > জাতীয়

আন্তর্জাতিক মিডিয়ার আগ্রহের কেন্দ্রে বাংলাদেশের নির্বাচন

ডেস্ক রিপোর্ট

জুলাই বিপ্লবের দেড় বছরের মাথায় আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে বহু আকাঙ্ক্ষিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে দেশজুড়ে শুরু হয় ভোটের উৎসব। এ উৎসবের ঢেউ আছড়ে পড়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। চলতি সপ্তাহজুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের প্রসিদ্ধ সব সংবাদমাধ্যমের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশের সংসদ নির্বাচন। আওয়ামী আমলের পাতানো নির্বাচনের খেলা শেষে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রার চেষ্টার বিষয় গুরুত্ব পাচ্ছে সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে। কোনো কোনো প্রতিবেদনে যদিও নির্বাচনি পরিবেশ ও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান তাদের প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘নারীর স্বাধীনতা ঝুঁকির মুখে : বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে ইসলামী দলের উত্থান নিয়ে উদ্বেগ’।

সম্প্রতি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনার শাসনামলে নিপীড়িত জামায়াতে ইসলামী ভোটে অভূতপূর্ব ফল করতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের অনেকের কাছেই গত কয়েক সপ্তাহ ছিল অত্যন্ত আনন্দের। কেননা, ১৭ বছরের মধ্যে প্রথম অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হতে যাচ্ছে। এই পথ তৈরি হয়েছে ২০২৪ সালে রক্তাক্ত আন্দোলনে শেখ হাসিনার পতনের মাধ্যমে।

আওয়ামী লীগ যে নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে। এছাড়া প্রতিবেদনে ভবিষ্যতে নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করে বলা হয়, দেশের বিপুলসংখ্যক নারী—যাদের মধ্যে অনেকেই বিপ্লবের সামনের সারিতে ছিলেন—তাদের কাছে নির্বাচনকে ঘিরে যে আশা তৈরি হয়েছিল, তা এখন হতাশা ও আশঙ্কায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এর কারণ ইসলামপন্থি রাজনীতির পুনরুত্থান এবং নির্বাচনে নারী প্রার্থীর স্বল্পতা। এতে তারা নারীর অধিকার ক্ষুণ্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন।

‘নাহিদ ইসলাম ও তার জোট নির্ধারণ করতে পারে বাংলাদেশের নির্বাচনের গতিপথ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা। প্রতিবেদনে গুরুত্ব পায় জুলাই বিপ্লব থেকে জন্ম নেওয়া এনসিপির সঙ্গে জামায়াতের জোটের প্রসঙ্গ। এই জোট নিয়ে এনসিপি যে বেকায়দায় পড়েছিল সে প্রসঙ্গও উঠে আসে এতে। প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সংস্থার পরিচালিত সাম্প্রতিক জনমত জরিপের ফলের প্রসঙ্গ টেনে বলা হয়, এবারের নির্বাচনে মূল লড়াইটা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনে একটি ছোট দল কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এখানেই নাহিদ ও এনসিপির ভূমিকা সামনে আসে। তারা এককভাবে আধিপত্য বিস্তারের মতো শক্তিশালী নয়, কিন্তু ফল কিছুটা প্রভাবিত করার মতো যথেষ্ট বড়। এছাড়া নির্বাচনের পর কী শর্তে পরবর্তী প্রক্রিয়া এগোবে, তা নির্ধারণে প্রভাব রাখতে সক্ষম।

এছাড়া কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমটি বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘বাংলাদেশের প্রথম অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচন গণতান্ত্রিক রীতিনীতি এবং সংখ্যালঘু অধিকারের জন্য একটি পরীক্ষা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিতর্কিত নির্বাচন এবং রাজনৈতিক পরিবেশ সংকুচিত হওয়ার পর এই ভোট গণতান্ত্রিক রীতিনীতি পুনঃস্থাপনে সাহায্য করতে পারে বলে জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে। তবে কট্টরপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রাধান্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে বলে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, নারী ও সংখ্যালঘুরা অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সংবাদমাধ্যমটির অপর প্রতিবেদনের শিরোনাম করা হয়েছে, ‘রক্তাক্ত অভ্যুত্থানের পর প্রথম ভোটে গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ গড়তে চাইছেন বাংলাদেশিরা’।

এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রসিদ্ধ সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী এই সংসদ নির্বাচন নিয়ে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোরও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দু তাদের এক প্রতিবেদনের শিরোনাম করেছে, ‘বাংলাদেশের নির্বাচন: ৫০%-এরও বেশি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ, সিসিটিভি বসানো হয়েছে বেশিরভাগ কেন্দ্রে’। প্রতিবেদনে নির্বাচনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে এনডিটিভি তাদের খবরে শঙ্কা প্রকাশ করেছে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কিনা তা নিয়ে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে সপ্তাহজুড়ে একাধিক খবর প্রকাশ করেছে। গতকাল প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের শিরোনাম ছিল, ‘শুল্ক ও অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পোশাক খাতের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে বাংলাদেশের নির্বাচন’। এতে বলা হয়, দেশের পোশাক শিল্পকে বাঁচানোর আশায় লাখ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক এবং তাদের কর্মস্থলের মালিকরা আজ বৃহস্পতিবার একটি নতুন সরকারের পক্ষে ভোট দেবেন।

ভোট পর্যবেক্ষণে ৩৯৪ আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক, ১৯৭ বিদেশি সাংবাদিক

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

নির্বাচন নিয়ে নিয়ে যা জানা জরুরি

জেন-জি ও অভ্যুত্থানের জনতা ভোটকেন্দ্র পাহারা দেবে

মুক্ত পরিবেশে প্রতীক্ষিত ভোট আজ

তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি যে আহ্বান সাবেক সেনাপ্রধানের

নির্বাচনে টাকা বহনের সীমা নিয়ে যা জানাল বাংলাদেশ ব্যাংক

জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তার সঙ্গেই কাজ করবে যুক্তরাষ্ট্র

ভোট কেন্দ্র, ভোটার স্লিপ ও সিরিয়াল নম্বর জানবেন যেভাবে

নির্বাচনের আগের রাতে যে দোয়া চাইলেন শায়খ আহমাদুল্লাহ