হোম > জাতীয়

আমার সন্তান কোথায়—নিখোঁজ শিশুদের খুঁজে পেতে জোরালো পদক্ষেপের দাবি

স্টাফ রিপোর্টার

‘আমার সন্তান কোথায়?’ এই প্রশ্ন তুলে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান, নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের সদস্যরা।

রোববার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমার সন্তান কোথায়?’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানানো হয়। নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের উদ্যোগে এবং জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জিরো মিসিং চিলড্রেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও আন্তর্জাতিক শিশু শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মো. সাদাত রহমানসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা প্রায় ৪০টি নিখোঁজ শিশুর পরিবারের সদস্যরা অংশ নেন। তাদের অনেকের সন্তান মাসের পর মাস, এমনকি বছরের পর বছর ধরে নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা সন্তান নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা, দীর্ঘদিনের অনুসন্ধান, অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

সম্মেলনে পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর বছরের পর বছর ধরে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করছেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সন্তানদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে পরিবারগুলো একদিকে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে অনেক নিখোঁজের ঘটনা অমীমাংসিত থেকে যাচ্ছে। তারা নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত খুঁজে বের করে নিরাপদে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ঘটনাগুলোর পুনঃতদন্ত ও অগ্রগতি পর্যালোচনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

মুন অ্যালার্ট ও হেল্পলাইন

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালে সিলেটে শিশু মুনতাহা নিখোঁজ ও হত্যাকাণ্ডের পর নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে অ্যাম্বার অ্যালার্ট ব্যবস্থা চালুর দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও সংশ্লিষ্ট উদ্যোগের সহযোগিতায় ‘মিসিং আর্জেন্ট নোটিফিকেশন’ বা ‘মুন অ্যালার্ট’ এবং টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৩২১৯-এর কার্যক্রম চালু করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে এটি দেশব্যাপী শিশু নিখোঁজ প্রতিরোধ ও উদ্ধারে সহায়ক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১৫ হাজার ৭১৭ জিডি

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির (জিডি) সংখ্যা ২০২৪ সালে ছিল ১৭ হাজার ৮০৮টি। ২০২৫ সালে এ সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ২৯ হাজার ৫০০টিতে। চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত শিশু নিখোঁজ-সংক্রান্ত ১৫ হাজার ৭১৭টি জিডি দায়ের হয়েছে বলেও জানানো হয়।

সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ২ হাজার ৩৮ জন শিশু নিখোঁজ বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

বক্তারা বলেন, এসব তথ্য শুধু সাম্প্রতিক কয়েক বছরের চিত্র। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে শিশু নিখোঁজ, অপহরণ ও পাচারের ঘটনা ঘটছে। এর অনেক ঘটনাই এখনো অমীমাংসিত। তাই নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে রাষ্ট্রীয়ভাবে সমন্বিত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি

সংবাদ সম্মেলন শেষে নিখোঁজ শিশুদের পরিবারের পক্ষ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর স্মারকলিপি দেওয়ার কথা জানানো হয়। তবে স্মারকলিপি দেওয়ার সময় এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

স্মারকলিপিতে নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা, দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত মামলাগুলো পুনরায় পর্যালোচনা ও তদন্তের আওতায় আনা, শিশু নিখোঁজ ও পাচার প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া, নিখোঁজ শিশুদের উদ্ধারে বিশেষ যৌথ অভিযান পরিচালনা এবং শিশু সুরক্ষায় সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের দাবি জানানো হয়।

অক্টোবরে ডেঙ্গুর বড় ধাক্কা সামলাতে এখনই নামতে হবে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের ডাকঘর আধুনিকায়নে চীনা কোম্পানির বিনিয়োগের প্রস্তাব: মন্ত্রী

সংঘর্ষ নয়, সমঝোতার মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে: রাষ্ট্রপতি

মুয়াজ্জিনদের দক্ষতা উন্নয়নে আস-সুন্নাহর প্রশিক্ষণ

জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ-নেপাল যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব

শাহজালালে বিমানমন্ত্রী: ব্যাগেজ হ্যান্ডলিংয়ে সময় কমানোর নির্দেশ

দারুস সালামে গৃহবধূকে গুলি করেন তারই স্বামী: র‍্যাব

সংসদে দুই দাবি বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য মাহবুবা হাকিমের

শপথ নিলেন পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণকে সম্পৃক্ত করে পরিচ্ছন্নতা অভিযান: প্রধানমন্ত্রী