প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী। আমরা বিশ্বাস করি, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
বৃহস্পতিবার চীনের স্থানীয় সময় রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায়) সেন্ট্রাল বেইজিংয়ের দিয়াওইউতাই হোটেলে সংবাদ সম্মেলন মাহদী আমিন একথা জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীনের বেইজিং সফর নিয়ে জরুরি এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকেলে বেইজিংয়ের ‘গ্রেট হল অব দ্য পিপল’-এ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে এই সমঝোতা স্মারকগুলো সই হয়। এর মধ্যে ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন, গ্রিন ডেভেলপমেন্ট প্রমোশন, যৌথ উন্নয়ন উদ্যোগ এবং বাংলাদেশের এক্সপোর্ট ক্যাপাসিটি বৃদ্ধি করে চীনে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা হয়েছে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বিপক্ষীয় বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন ডেভেলপমেন্টাল কো-অপারেশন নিয়ে কথা হয়েছে।কনসেশনাল লোন, অর্থাৎ বাংলাদেশের যে ঋণ চীন থেকে আসছে, সেখানে কীভাবে আমরা ইন্টারেস্ট রেট কমাতে পারি এবং গ্রেস পিরিয়ড বাড়াতে পারি সেটি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
তিনি জানান, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ অর্থাৎ শিক্ষা এবং সামগ্রিক অ্যালাইনমেন্ট, ম্যানপাওয়ার ক্যাপাসিটি ডেভেলপমেন্ট সম্পর্কিত কাজগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে
হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট নিয়ে একটি পৃথক কোঅপারেশন প্ল্যান স্বাক্ষর করা হয়েছে।মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশ থেকে জাতীয় পর্যায়ের কিছু বিষয় এবং সাংস্কৃতিক সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।একই সঙ্গে চীনের ভাষা ম্যান্ডারিন বাংলাদেশে চালু করার বিষয়ে আমরা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।স্কুল কারিকুলাম এবং টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনে কোলাবরেশনের জন্য দুটি পৃথক এমওইউ সই হয়েছে।গণমাধ্যম খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, বাংলাদেশে কিভাবে বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, সেখানে ইকোনমিক জোন দিয়েআমরা কিভাবে বাংলাদেশের নতুন চীনা ফ্যাক্টরি, চীনা প্রোডাকশন, ফ্যাসিলিটি এবং তার মাধ্যমে এমপ্লয়মেন্ট জেনারেট করতে পারি সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন দিয়াওইউতাই থেকে বিশেষ মোটর শোভাযাত্রা সহকারে গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ পৌঁছান।সেখানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পরিচয় পর্ব শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা মঞ্চে নিয়ে যান লি কিয়াং।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশিত হয় এবং চীনের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংকে সশস্ত্র সালাম প্রদান করে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে তোপধ্বনি দেওয়া হয় এবং পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনীর প্যারেড পরিদর্শন করেন। পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক গ্রেট হলে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসেন।
চীনের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রীসহ একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হয়েছে।সেখানে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে তাদের দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন।
বাংলাদেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বর্তমানে চীন বড় একটি ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় আজকের আলাপচারিতায় উঠে এসেছে, চীন কীভাবে বাংলাদেশের রোড, ব্রিজ, টানেল, পোর্ট এ ধরনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করতে পারে।আমাদের মধ্যে রাস্তা, ব্রিজ বা টানেল নির্মাণ এবং বন্দরের প্রয়োজনীয়তার ক্ষেত্রে চীন সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। এ ধরনের বিষয় নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। মংলা পোর্টের কিছু ডেভেলপমেন্ট কাজ চলমান রয়েছে, সেখানে চীন কী ভূমিকা রাখছে, আমাদের ট্রান্সপোর্ট সেক্টরের ক্ষেত্রে, ইলেকট্রিক বা গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে, নতুন রাস্তা নির্মাণের পাশাপাশি সেগুলোতেও যেমন গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।একই সঙ্গে নতুন ইকোনমিক জোন এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কগুলোতে কীভাবে চীনের বিনিয়োগ বাড়ানো যায়, নতুন প্রকল্প নেওয়া যায়, যার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিহবে এবং বাংলাদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে সেগুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে।তিস্তা প্রকল্প প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, এই প্রকল্পের বিষয়ে আমাদের একটি মহাপরিকল্পনা রয়েছে, যেটা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে প্রণীত হয়েছে। তার আলোকে এই মহাপরিকল্পনার প্ল্যানিং স্টেজ থেকে শুরু করে যেখানে প্রয়োজন, চীন আমাদের টেকনিক্যাল সাপোর্ট প্রদান করবে।তাদের যে নলেজ বা জ্ঞান রয়েছে, তার ভিত্তিতে আমাদের প্রকল্প ডিফাইন করা, প্ল্যানিং করা সব জায়গাতেই ধারাবাহিকভাবে তারা ইনভলভ হবে বলে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডি করাটা এত বড় একটি প্রকল্পের জন্য খুবই প্রয়োজন। সেই জয়েন্ট ফিজিবিলিটি স্টাডির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে তারা কাজ করতে চায়। এছাড়া টোটাল ওয়াটার রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট এবং ড্রেনেজ সিস্টেমের যে বিষয়গুলো রয়েছে, সেগুলো নিয়েও কাজ করার সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানই ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন।
মাহদী আমিন জানান, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার হিসেবে চীনের সঙ্গে আমাদের বড় সুযোগ রয়েছে। কারণ একদিকে যেমন চীন আমাদের সবচেয়ে বড় ট্রেডিং পার্টনার, একই সঙ্গে বাংলাদেশ থেকে চীনে যে পরিমাণ রপ্তানি হয়, চীন থেকে বাংলাদেশে আমদানি তার তুলনায় অনেক বেশি। সে ক্ষেত্রে আমরা কীভাবে আমাদের রপ্তানি বাড়াতে পারি, একই সাথে চীনে বাংলাদেশের দিক থেকে রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে। কীভাবে আমরা রপ্তানিকে ডাইভার্সিফাই করতে পারি, সেটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে আমাদের জন্য চীনে ডিউটি-ফ্রি ইমপোর্ট সুবিধা রয়েছে। কিন্তু আমরা নতুন প্রজেক্ট কীভাবে রেইজ করতে পারি, বিশেষ করে ভ্যালু চেইনে, সেটি নিয়েও কথা হয়েছে।
দুই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিপাক্ষিক বৈঠক প্রসঙ্গে মাহদী আমিন আরও বলেন, যেহেতু চীন এখন উপরের দিকে যাচ্ছে, তাদের বিদ্যমান অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি নতুন মার্কেটে রিলোকেট করছে। সেই রিলোকেটেড প্রোডাকশন ফ্যাসিলিটির গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে কীভাবে ব্যবহার করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিতে বড় সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ কীভাবে গার্মেন্টস সাপ্লাই বাড়াতে পারে, সেগুলো নিয়ে আলোচনা করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে এবং এ বিষয়ে চীন অত্যন্ত ইতিবাচক।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপত্র বলেন, যেসব ইন্ডাস্ট্রিতে বাংলাদেশের দক্ষতা রয়েছে, সেখানে আমরা আমাদের প্রয়োজন অনুযায়ী কিছু পরিবর্তন করতে পারলে চীনা শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো সেখানে বিনিয়োগ করবে। আমাদের এখানে একটি বড় মার্কেট রয়েছে। এই মার্কেটে বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্যের অফুরন্ত সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা যদি আমাদের সাপ্লাই চেইনকে সেভাবে রিকনফিগার করে চীনের ডমেস্টিক ডিমান্ডের সাথে অ্যালাইন করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশ থেকে রপ্তানির বৈচিত্র্য বাড়ানো সম্ভব।
মাহদী আমিন বলেন, আজকে নিশ্চিত করা হয়েছে বাংলাদেশ থেকে আমাদের জাতীয় ফল কাঁঠাল বাণিজ্যিকভাবে চীনে রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।এ ছাড়া ফল, শাকসবজি ও মৎস্য খাতে আমরা নতুন নতুন ডাইভার্সিফিকেশন করতে পারি।একই সাথে ফার্মাসিউটিক্যাল, সিরামিক এবং আইটি খাতে বেশ কিছু ইন্ডাস্ট্রি রয়েছে, যেখানে একদিকে যেমন চীনের বিনিয়োগ সম্ভব, ঠিক তেমনি বাংলাদেশ থেকে চীনে রপ্তানিরও সুযোগ রয়েছে।এজন্য একটি যৌথ অ্যাকশন প্ল্যান করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, যা বাংলাদেশ ও চীন যৌথভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে।এর মূল উদ্দেশ্য হবে আমাদের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে এমনভাবে সাজানো, যেখানে এই ডিপ্লোম্যাটিক ডাইসের মাধ্যমে মিউচুয়াল বেনিফিট এবং উইন-উইন পরিস্থিতি তৈরি হবে।
তিনি বলেন, একদিকে যেমন বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার মাধ্যমে উপকৃত হবে, একই সাথে চীনও তাদের বিনিয়োগের মাধ্যমে লাভবান হবে। তাদের ডমেস্টিক মার্কেটে বাংলাদেশ থেকে পণ্য যাবে এবং সাপ্লাই চেইন কার্যকরভাবে কাজ করবে।
মাহদী আমিন আরো বলেন, চীন বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চায়। চীনের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ও প্রাইভেট সেক্টরের প্রতিষ্ঠানগুলো ডিজিটাল ইকোনমি, আইটি, এগ্রিকালচার, ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও প্রোডাকশন-ওরিয়েন্টেড শিল্পে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী। কিছু চীনা ব্যাংক সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুরু করতে চায়। আমাদের ফাইন্যান্সিয়াল সিস্টেমকে আমরা যেভাবে রিফর্ম করছি এবং সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি চীন মনে করছে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে বিনিয়োগ ও কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, বেশ কিছু চীনা কোম্পানি রয়েছে, যাদের বিশ্বের অন্যান্য দেশে অফিস রয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় তারা বাংলাদেশেও অফিস করবে, যে বিষয়ে চীনা প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা দেখিয়েছেন। আমরা সবসময় চাই পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটি যেন বৃদ্ধি পায়। সেই পিপল-টু-পিপল কানেক্টিভিটির বিষয়টি আমাদের ধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনায় উঠে এসেছে।
তিনি জানান, এডুকেশনের ক্ষেত্রে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ হিসেবে ম্যান্ডারিন আমরা ইন্ট্রোডিউস করতে চাচ্ছি। সেখানে বড় ধরনের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশনে চীন সহায়তা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাংলাদেশে ইতোমধ্যে চীন হাসপাতাল খাতে কাজ করছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, চীনের বিনিয়োগকৃত হাসপাতালের সংখ্যা কীভাবে বাড়ানো যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। একদিকে যেমন সেটা নিয়ে কথা হয়েছে, একই সঙ্গে চীনের প্রধানমন্ত্রী আগ্রহ প্রকাশ করেছেন যে বাংলাদেশ থেকে অনেকেই বিদেশে চিকিৎসা নিতে চান। বাংলাদেশিরা যদি চীনে আসেন, সেক্ষেত্রে ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে তাদের জন্য হেলথকেয়ার সুবিধা আরও বৃদ্ধি করা সম্ভব।এসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যেন সহজে চীনের ভিসা পায় এবং স্কলারশিপের সুযোগ বৃদ্ধি পায়, বিশেষ করে ম্যান্ডারিন ভাষা শিখে যারা যেতে চায়, তাদের কীভাবে স্কলারশিপের মাধ্যমে ফ্যাসিলিটেট করা যায়, সেগুলো নিয়ে সরকার পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সক্ষমতা কীভাবে বৃদ্ধি করা যায়, সেটিও আলোচনায় এসেছে। প্রায়ই আমাদের দেশে বন্যা, ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের মতো দুর্যোগ দেখা দেয়। সেখানে আমরা যদি আমাদের প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চাই, সে ক্ষেত্রে চীনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, একই সঙ্গে সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন স্থানের বিষয়ে জনগণের সঙ্গে জনসম্পৃক্ততা কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটিও আলোচনায় উঠে এসেছে।আমাদের মূল উদ্দেশ্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।মাল্টিল্যাটারাল পর্যায়ে কোথায় সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।একই সঙ্গে সম্প্রতি জাতিসংঘে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্জন নিয়ে চীন আমাদের অভিনন্দন জানিয়েছে।সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে একসঙ্গে কাজ করার জন্য চীন শক্তিশালী আগ্রহ প্রকাশ করেছে।ব্রিকসে সম্পৃক্ততার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ব্রিকসে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে চীন ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে কোনো সংলাপের প্রয়োজন হলে, বিশেষ করে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে, সেক্ষেত্রে চীন জানিয়েছে সহায়তামূলক ভূমিকা পালন করতে চায়।
মাহদী আমিন বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রেখে বাংলাদেশে যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়ে এসেছে। চীন মনে করে যে আমরা যথেষ্ট স্থিতিশীলতার মাধ্যমে আমাদের অর্থনৈতিক ও অন্যান্য উন্নয়নযাত্রাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব। সেখানে তারা একটি স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে ভূমিকা রাখতে চায়, যার সুফল উভয় দেশের সাধারণ জনগণ ভোগ করবে।সুতরাং স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার হিসেবে চীন আগামী দিনে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। আমাদের জাতীয় অগ্রগতির ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী চীনের প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। তারা অত্যন্ত আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের সঙ্গে আমাদের আতিথেয়তা দিয়েছেন এবং সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করেছেন। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের পক্ষ থেকে চীনের প্রধানমন্ত্রীকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আমরা বিশ্বাস করি, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীনের ৫০ বছরের সম্পর্ক নতুন মাত্রায় পৌঁছেছে।
মাহদী আমিন বলেন, চীনের প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতেই বলেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কীভাবে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন। তাঁদের হাত ধরেই এই সম্পর্কের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হয়েছে।একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশ আজ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোগত উন্নয়নে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, সেখানে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি তাঁদের অবদানের প্রশংসা করে বলেছেন এই ঐতিহাসিক সম্পর্ককে আমাদের আরও সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে চীন সরকার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি তাদের সম্পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন। ট্রেড, এডুকেশন, কালচার, বাণিজ্যসহ সকল বিষয়ে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে চায়। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়েও কথা বলেছেন। এ বিষয়ে চীন বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশ্বস্ত করেছে। চীন বিএনপি সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে জানিয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর শুধু একটি গল্প নয়, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের নতুন শুভ সূচনা।
সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, চীনের মতো একটি বৃহত্তম দেশ প্রধানমন্ত্রীকে যেভাবে সম্মানিত করেছেন, তাতে আমরা মুগ্ধ, সম্মানিত এবং আনন্দিত। আমরা মনে করি, প্রধানমন্ত্রীর সম্মানের সঙ্গে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি উপস্থিত ছিলেন।
এমবি